মোহনগঞ্জে দুই দিনে দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণচেষ্টা

অপহরণচেষ্টার শিকার শিশু
দুই দিনের ব্যবধানে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে অপহরণচেষ্টার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এক ঘটনায় অচেতন অবস্থায় অপহৃত পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগি থেকে উদ্ধার করা হয়। অপর ঘটনায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অপহরণকারীর হাতে কামড় দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ে।
গত রবিবার ও সোমবার ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের বাইরে আসে। এ সময় গেটের বাইরে কয়েকজন যুবক তাকে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি রুমাল তুলে দিতে বলে। শিশুটি রুমালটি তুলতে গেলে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে অপহরণকারীরা তাকে অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
রবিবার বিকালে মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীও অপহরণচেষ্টার শিকার হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় ছুটির পর সিএনজিতে করে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় গাড়িতে থাকা এক যুবক শিশুটিকে অপহরণের চেষ্টা করে। অটোরিকশাটি বিরামপুকুর বাজারে পৌঁছালে শিশুটি অপহরণকারীর হাতে কামড় দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন বললেন, এ ঘটনার পর সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। শহরের বিভিন্ন সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা দাবি জানাচ্ছি।
মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে হাবিবা আসমা জানালেন, শিক্ষার্থীদের একা বিদ্যালয়ের বাইরে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অভিভাবক বা কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে বাইরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দৌলতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান আগামীর সময় সময়কে বললেন, বিষয়টি কাল শুনিনি। আজ শুনলাম।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বললেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।





