ঈদের নতুন জামা নেই, ফুফুর কোলটুকু আছে

ছবি: আগামীর সময়
চারদিকে ঈদের আনন্দ। বাজারে ভিড়, নতুন জামার গন্ধ, মিষ্টির দোকানে লাইন। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার রেলস্টেশন এলাকার তিনটি শিশুর কাছে এবারের ঈদও আসছে নীরবে। বাবা একদিন ঢাকায় গিয়ে আর ফেরেননি, মা নতুন সংসার বেঁধেছেন অন্যত্র। পেছনে পড়ে আছে কোলের ছোট্ট ছেলে আর দুটি মেয়ে। তাদের আঁকড়ে ধরেছেন ফুফু রাশেদা বেগম, অন্যের বাড়িতে কাজ করা এক নিঃসঙ্গ নারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক ভাঙনের পর যখন শিশু তিনটি একেবারে অসহায় হয়ে পড়ে, তখন এলাকার মানুষ তাদের তুলে দেন রাশেদা বেগমের কাছে। সেই থেকে নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তিনি এই তিন শিশুকে আগলে রেখেছেন।
রাশেদা বেগম বললেন, 'বাবা-মা দুজনেই যখন পালিয়ে গিয়েছিল, তখন স্থানীয়রা ওদের তিনজনকে আমার কাছে এনে দেয়। কিন্তু পরে ওদের বাবা-মা কোনো খোঁজ রাখেননি। আমার স্বামী নেই, অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পাই তা দিয়েই ওদের নিয়ে থাকি। ওরা অভাবের মধ্যে বড় হচ্ছে।'
ঈদের আগে অন্য শিশুরা যখন নতুন জামার বায়না ধরে, এই তিনটি শিশু তখন চুপ করে থাকে। কারণ তারা জানে, ফুফুর সাধ্য কতটুকু। দৈনন্দিন খাবার আর পোশাকের ব্যবস্থা করতেই যেখানে কষ্ট, সেখানে ঈদের বাড়তি আয়োজন অনেকটাই স্বপ্নের মতো।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমুল ইসলামের ভাষ্য, 'তিনটি শিশুর বর্তমান অবস্থা সত্যিই কষ্টের। অন্য শিশুদের মতো নতুন পোশাক বা ঈদের আনন্দ তাদের জীবনে তেমনভাবে আসছে না। শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সমাজের সচেতন মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা দরকার।'
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম রব্বানী সরদার জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। শিশুদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিশু অধিকার নিয়ে কর্মরত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই শিশুদের জন্য শুধু মানবিক সহায়তাই যথেষ্ট নয়, শিক্ষা, মানসিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনাও সমান জরুরি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা একটাই, এই তিন শিশুর গল্প কেবল সহানুভূতির সংবাদ হয়ে না থেকে বাস্তব সহায়তার মধ্য দিয়ে তাদের জীবনে একটু আলো এনে দিক।






