গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে, স্বামীকে খুঁজছে পুলিশ

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গৃহবধূ সুপ্রিয়ার মরদেহের সামনে স্বজনরা। ছবি: আগামীর সময়
বরগুনার আমতলীতে হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক নারীর মরদেহ। হত্যা সন্দেহে তার পরিবারের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই গৃহবধূর ননদকে। তার স্বামীকে খুঁজছে পুলিশ।
মৃত সুপ্রিয়া রানীর (৩২) শ্বশুরবাড়ি উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে। তার স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার। এসব নিশ্চিত করেছেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন।
সুপ্রিয়ার স্বজন ও এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালে অজয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে সুপ্রিয়াকে নির্যাতন করা হতো। ১১ বছরের মেয়ে ও ১১ মাস বয়সের ছেলে সন্তান আছে তাদের।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, পাঁচ বছর ধরে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে ছিলেন অজয় চন্দ্র হাওলাদার। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় সুপ্রিয়াকে একাধিকবার নির্যাতন করা হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এ নিয়ে দুজনের তর্কাতর্কি হয়। সুপ্রিয়াকে তখন মারধর করেন অজয়। ঘটনাটি ফোনে মা দেপালী রানীকে জানান ওই গৃহবধূ। কিছুক্ষণ পরেই আসে অজয়ের ফোন, দেপালীকে জানান— সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
পরে উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে সুপ্রিয়ার মরদেহ দেখেন তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়েছেন অজয় ও তার স্বজনরা। রাতেই অজয়সহ সাতজনের নামে আমতলী থানায় হত্যা মামলা করেন দেপালী। শুক্রবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে।
এদিন দুপুরে অজয়ের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মৃতের মা দেপালী রানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘আমার জামাতা অজয় চন্দ্র হাওলাদারের ওই সম্পর্ক নিয়ে আমার মেয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি অজয় চন্দ্র হাওলাদারসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার কঠোর শাস্তি চাই।’
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হাসান রাহাত বললেন, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়া মারা গেছেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেছেন, ‘এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। রমা রানী নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’




