ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোরীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১০

হামলা-ভাঙচুরের পর ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্যের আহাজারি- আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র ও স্থানীয়রা জানালেন, দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিলেন প্রতিবেশী হুমায়ুন মিয়া ওরফে লক্ষিন্দরের ছেলে রাকিব। পরিবারের অভিযোগ, রাকিব কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তাতে রাজি হয়নি তার পরিবার। এ নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরীটির পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে না পেরে রাকিব বাড়ির সামনের রাস্তায় তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে নারী-পুরুষসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, সংঘর্ষের পর রাকিবের স্বজনেরা তাদের পাঁচটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এ সময় স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও একটি নতুন মোটরসাইকেল লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবারটি।
খবর পেয়ে বিজয়নগর থানার এসআই মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সিঙ্গারবিল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া বললেন, মেয়েসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে তিনি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যান।
সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেখেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও তিনি দেখেছেন।
বিজয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব চন্দ্র সরকার বললেন, মেয়েসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



