কুষ্টিয়ায় ‘পীর’ হত্যা
জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতিসহ ৪ জনের নামে মামলা

ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ আব্দুর রহমান শামীম হত্যার ঘটনায় জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। এতে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে আরও তিন ব্যক্তিকে। তারা হলেন- স্থানীয় জামায়াতকর্মী রাজিব মিস্ত্রী, খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৫) ও আবেদের ঘাট এলাকার মাদরাসার শিক্ষক সাফি।
গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
মামলায় দুই নেতাকর্মীর নাম থাকার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘এ ঘটনায় আমাদের দলের কারও সম্পৃক্ততা নেই। আইনিভাবে মোকাবিলা করা হবে অভিযোগের বিষয়টি।’
এর আগে গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন নিহত শামীমের ভাই ফজলুর রহমান।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তিনি আমার বড় ভাই। ঘটনার দিন পুলিশের সঙ্গেও অনেকবার কথা হয়েছে আমার। ওই দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতারা। কিন্তু মামলায় তাদের কারও নাম নেই। অথচ প্রধান আসামি করা হলো আমাকে।’
প্রসঙ্গত, পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যার ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার রাতে। মাত্র ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় ফিলিপনগর এলাকায়। পরদিন শনিবার সকালে পরিস্থিতি পুলিশের নজরে আসলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল পুলিশের একটি দল। কিন্তু দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় পীরের দরবারে। পুলিশের উপস্থিতিতেই কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় শামীম জাহাঙ্গীরকে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

