চুয়াডাঙ্গা
তৃপ্তি করে আম খাচ্ছিলেন শহিদুল, মুহূর্তের অসাবধানতায় সব শেষ

প্রতীকী ছবি
সকালের শান্ত পরিবেশে বাড়ির সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঘরের এক কোণে বসে তৃপ্তি ভরে পাকা আম খাচ্ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী শহিদুল ইসলাম। কিন্তু একটি অসাবধানতা যে মুহূর্তের মধ্যে এমন করুণ পরিণতি ডেকে আনবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আম খাওয়ার সময় হঠাৎ করেই আমের একটি অংশ ও আঁটি তার শ্বাসনালীতে আটকে যায়। শুরু হয় তীব্র শ্বাসকষ্ট ও ছটফটানি।
শনিবার (৩০ মে) সকালের দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় নিজ বাড়িতে এই মর্মন্তুদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শহিদুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত বদর উদ্দিন মন্ডলের ছেলে।
শহিদুলের বড় ভাই শামসুদ্দিন জানান, সকালে নিজ বাড়িতে বসে পাকা আম খাচ্ছিলেন শহিদুল। এ সময় অসাবধানতাবশত আমের আঁটি ও অংশ তার শ্বাসনালীতে আটকে যায়। শহিদুলকে ছটফট করতে দেখে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং শ্বাসনালী থেকে তা বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু চোখের পলকে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো ভাংবাড়ীয়া গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশীরা জানান, শহিদুল ইসলাম অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার এমন চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় এখন ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি বাণী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বললেন, 'আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়ায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।'






