জামালপুর গ্যাস সংকট
পাঁচ ঘণ্টা পর এলেন ইউএনও, আশ্বাসে সড়ক ছাড়লেন আন্দোলনকারীরা

সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রেখে অবরোধ করেছেন চালকরা। ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরে প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। সকাল ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়।
এর আগে গ্যাস সংকট নিরসন ও গ্যাসের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন অটোচালকরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
আন্দোলনরত চালকদের ক্ষোভ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে তাদের আয় কমে গেছে, চরম সংকটে পড়েছেন পরিবার নিয়ে। সিএনজিচালিত যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন।
চালক জয়নাল আবেদীন বলেছেন, ‘রাত ১২টা থেকে লাইনে বসে আছি, এখনো গ্যাস পাইনি। আমরা ভাড়া গাড়ি চালাই। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালাবো কীভাবে? তাই বাধ্য হয়ে সবাই মিলে রাস্তা অবরোধ করেছি।’
আরেক চালক আমজাদ হোসেনের অভিযোগ, শুধু কিছু নির্দিষ্ট গাড়িকে গ্যাস দেওয়া হয়। সাধারণ চালকরা গ্যাস পাচ্ছেন না। ‘আমাদের জন্য আরেকটি গ্যাস পাম্পের ব্যবস্থা বা সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে আমরা রাস্তা ছেড়ে দেব’- বলেন তিনি।
ভোর থেকে অবরোধ করলেও দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা। পাঁচ ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার এসে আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন।
ইউএনও জানালেন, গ্যাস সংকট ও নতুন আরেকটি গ্যাস স্টেশনের দাবিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা সড়ক অবরোধ করছিলেন। ‘জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে আমি এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এখানে এসেছি। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক যে সকল ব্যবস্থা রয়েছে, তা আমরা দ্রুত নেব। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয় বিভিন্ন চ্যানেলে কথা বলছেন। আন্দোলনকারীদের বলা হয়েছে তারা যদি স্মারকলিপি দেয়, তাহলে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সেটি পাঠাবো। গ্যাস সংকট এখন জাতীয় সমস্যা, আশা করি খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে’- বললেন নাজনীন আখতার।





