সুন্দরগঞ্জে রেলওয়ে পরিদর্শন টিমের ওপর হামলা, ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সংগৃহীত ছবি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রেললাইনের ওপর শুকাতে দেওয়া খড় সরানোকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের পরিদর্শন টিমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৬ জনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন লালমনিরহাট রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ গ্রামে রেললাইনের ওপর শুকাতে দেওয়া খড় ট্রেন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ইঞ্জিনের হুইল স্লিপ, ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে নিয়মিত পরিদর্শনে রেললাইনে থাকা খড় সরিয়ে দেওয়া হয়। একই ধারবাহিকতায় গতকাল সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রেলের লালমনিরহাট বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাউনিয়া থেকে বোনারপাড়া অভিমুখে রেললাইন পরিদর্শনে আসেন। এ সময় রেললাইনের ওপর বিভিন্ন পয়েন্টে শুকাতে দেওয়া খড় সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বামনডাঙ্গা রেল স্টেশনের উত্তর পাশে টি/৯৭-এফ লেভেল ক্রসিং গেটসংলগ্ন রেললাইনের ওপরের খড় পরিদর্শন টিমের সঙ্গে থাকা ট্রলিম্যান সরিয়ে দিলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে বিভাগীয় প্রকৌশলীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পরিদর্শন টিমের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয় এবং ট্রলি ভাঙচুর করা হয়।
মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- মনমথ গ্রামের মৃত গণেশ চন্দ্রের ছেলে নিশি কুমার (৬৫), তার ছেলে বিপুল কুমার (৪২) ও শিপুল কুমার (৩৭), হৃদয় চন্দ্রের ছেলে নয়ন চন্দ্র (৩৭), আজহারুলের ছেলে রাজু (৪২) এবং গেটসংলগ্ন মুদি দোকানদার শ্যামল (৩৮)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বামনডাঙ্গা এলাকায় বোরো মৌসুমে কৃষকরা রেললাইনের ওপর খড় শুকাতে দেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। রেলওয়ের কর্মীরা খড় সরাতে গেলে ক্ষোভের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন জানান, ঘটনার পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তারা সবাই পলাতক।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশের এসআই জিয়াউর রহমান বললেন, আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।






