গাংনী
ভুয়া কাবিনে প্রবাসী নারীর অর্থ আত্মসাৎ

অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল বাসেদ রিংকু
মেয়ে থাকেন সৌদি আরব, ছেলে বাংলাদেশে। বিয়ে হয় তাদের মোবাইলে। কাবিন এক লাখ টাকা। পরে সংসার সাজানোর কথা বলে ছেলে ধাপে ধাপে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন মেয়ের কাছ থেকে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল বাসেদ রিংকুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায়।
রিংকু তেঁতুলবাড়িয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল বারীর ছেলে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী প্রবাসী নারী শাহিনুর খাতুন বরগুনার তালতলীর নীলকুড়িয়া গ্রামের আমির হোসেনের মেয়ে। বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রিংকুর সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। প্রথমদিকে রিংকু নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
শাহিনুর খাতুন জানান, সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর রিংকু তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে ১ লাখ টাকা কাবিন ধার্য করে মোবাইলে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে সংসার শুরু ও ভবিষ্যৎ জীবনের নানা পরিকল্পনার কথা বলে রিংকু টাকা দাবি করতে থাকেন। ভুক্তভোগী নারী ধাপে ধাপে তাকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা নেওয়ার পর রিংকু যোগাযোগ সীমিত করেন দেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন রিংকু বিবাহিত। তার একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।
অভিযুক্ত রিংকু দাবি করেন, উভয়ের সম্মতিতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ১ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে সম্পন্নের কথা জানান শাহিনুর খাতুনকে।
তিনি স্বীকার করেন, কাবিননামাটি তিনি নিজের হাতে তৈরি করেছিলেন। সম্পর্কের অংশ হিসেবেই অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং এর মধ্যে কিছু টাকা তিনি ফেরতও দিয়েছেন।
তিনি আরও বললেন, ভুক্তভোগী চাইলে পারিবারিকভাবে তিনি তাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
রিংকুর বাবা আব্দুল বারীর ভাষ্য, বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ছেলে ভুল করেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। বিষয়টি আর বাড়াতে চান না।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, রিংকু দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তাদের মতে, শুধু এই প্রবাসী নারী নয়, আরও একাধিক নারীর সঙ্গে এমন প্রতারণার অভিযোগ থাকতে পারে।
গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিস মোর্শেদ চৌধুরী বললেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




