প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার থেকে ‘বঞ্চিত’ রাসিকের ৯৮ কর্মী

ফাইল ছবি
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) কর্মীদের ঘরে এবার প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো উপহারে এসেছে স্বস্তির ঈদ। তবে একই প্রতিষ্ঠানের ৯৮ কর্মীর মনে বঞ্চনার ক্ষোভ। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের অর্থ পৌঁছেনি তাদের হাতে, অনেকের টেবিলে ওঠেনি ঈদের খাবার। উপহার বিতরণের তালিকা প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বৈষম্যের শিকার কর্মীরা।
গত ১৭ মার্চ রাজশাহী নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২৩৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাঝে বিতরণ করা হয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। প্রতিজন পান ৫ হাজার টাকা করে। সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রধান অতিথি হিসেবে এ অনুদান বিতরণ করেন।
পরিচ্ছন্নতা বিভাগের আওতাধীন মশক নিয়ন্ত্রণ শাখার কর্মচারী ৯৮ জন। এর মধ্যে ৫৩ জন নগর ভবনে এবং ৪৫ জন ৩০টি ওয়ার্ডে কর্মরত। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় নাম আসেনি তাদের।
বঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশিরভাগই মাস্টাররোলভিত্তিক কর্মচারী। ফলে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা ও ভীতি তাদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানালেন এসব তথ্য।
‘আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করি। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে আমাদের ভূমিকা আছে। কিন্তু ঈদের সময়টাতে যখন একটু সহায়তা দরকার ছিল, তখনই আমাদের বাদ দেওয়া হলো’- অভিযোগ একজনের।
চাপা ক্ষোভ আরেক কর্মীর কণ্ঠে- ‘অন্য সহকর্মীরা যখন ৫ হাজার টাকা পেয়ে পরিবার নিয়ে ঈদের বাজার করেছে, আমরা তখন কষ্টে দিন কাটিয়েছি। অনেকের ঘরেই ঠিকমতো ঈদের আয়োজন হয়নি।’
কিছু কর্মচারীর দাবি, কয়েক বছর আগে মশক শাখার কয়েক কর্মীর সঙ্গে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরোধের জের এখনও কাটেনি। সে ঘটনার পর থেকেই এই শাখার কর্মীদের নানা ক্ষেত্রে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। তবে ওই কর্মকর্তার নাম জানাননি তারা।
এক কর্মী বললেন, ‘আমাদের অনেক সহকর্মী গত কয়েক বছরে মারা গেছেন। কিন্তু শূন্য পদে নতুন নিয়োগ হয়নি। উল্টো আমাদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে। তারপরও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে।’
আরেকজনের অভিযোগ, বঞ্চিতদের জন্য বিকল্পভাবে ঈদ উপহার দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছিল। এ নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে নোটও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। বরং উদ্যোগ নেওয়া কর্মকর্তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।
‘মশক কর্মচারিদের নামও দেয়া হয়েছিল। আপনি চাইলে আমি প্রমাণও দেখাতে পারব। তবে এটি তো আমার একক সিদ্ধান্তের কোনো বিষয় নয়। রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সবার তালিকা জমা দিয়েছিলেন’- বক্তব্য সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলারের।
দায় নিতে রাজি নন রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।
‘এটি পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার বিষয়, তিনি ভালো বলতে পারবেন। তারা যেভাবে লিস্ট করে সিটি করপোরেশন থেকে পাঠিয়েছেন সেভাবেই হয়েছে। তবে কেউ যদি বাদ পড়ে থাকেন পরবর্তীতে সুযোগ আসলে অবশ্যই তাদেরকে ইনক্লুড করা হবে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র দুই দিন অফিস করলাম।’
বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন বলে জানালেন প্রশাসক মাহফুজুর।

