বিশ্বকাপের উন্মাদনা
যশোরে সাত বছর হয় না জেলা ফুটবল লিগ

ছবি: আগামীর সময়
দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চার বছর পরপর আসা এই বৈশ্বিক উৎসবকে ঘিরে যশোরেও সাজ সাজ রব। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো কিংবা পছন্দের দলের পতাকা টানানো— সব মিলিয়ে শহর থেকে গ্রাম, পাড়ায় পাড়ায় এখন ফুটবল উন্মাদনা।
যশোর জেলায় ফুটবল ক্লাবের সংখ্যা ১৮টি। তবুও গত সাত বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়নি কোনো জেলা ফুটবল লিগ।
মাঠে খেলার আয়োজন নেই। তবে বিশ্বকাপ ফুটবল আসর উপলক্ষে টেলিভিশন কিংবা বড় প্রজেক্টরে মেতে উঠবে যশোরবাসী। শহরের জেলরোড, খড়কী, নওয়াপাড়া, ঘোপ এলাকাসহ পৌরসভার প্রতিটি এলাকা সেজেছে সমর্থকদের প্রিয় দলের রঙে। ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন— যে জেলায় ফুটবলের এত দর্শক, সেখানে পেশাদার লিগের আকাল কেন?
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার মোট ১৮টি ক্লাবের মধ্যে ‘এ’ গ্রেডের ক্লাব ১০টি ও ‘বি’ গ্রেডের ক্লাব আটটি। তবুুও সাত বছর ধরে হয় না কোনো ফুটবল লিগ। এর পিছনে রয়েছে ডিস্ট্রিক্ট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) সাংগঠনিক জটিলতা। কার্যকর কমিটির অভাব এবং উচ্চ আদালতে মামলা ঝুলে থাকায় প্রশাসনিক দিক থেকে অভিভাবকহীন যশোর।
ফলে শুধু বাফুফের নির্বাচনেই নয়, দেশের মূলধারার ফুটবল কর্মকাণ্ড থেকেও যোজন যোজন দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এই জেলাকে। এ ছাড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, সঠিক পরিকল্পনার অভাব এবং মাঠ সংকটের দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর লিগ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত চর্চার অভাবে ফুটবলে জেলার নতুন প্রজন্ম প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে না। প্রতিযোগিতামূলক খেলার অভাবে মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না।
ফুটবলপ্রেমিক মিজানুর রহমান বললেন, বাড়ির ছাদে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের পতাকা দেখে খুব আনন্দ হয়। কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে যায় যখন দেখি আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামে কোনো ফুটবল ম্যাচ নেই। লিগ না থাকায় আমাদের সন্তানদের ফুটবল খেলার আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে।
কাজী জামাল উদ্দিনের মতো প্রবীণ ফুটবলপ্রেমীরা মনে করেন, প্রযুক্তির বদল হলেও সেই পুরনো দিনের উন্মাদনা কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বাজারের মোড়গুলোয় বড় পর্দার আয়োজনের মাধ্যমে। কিন্তু সবার মনেই একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলে কি যশোরের ফুটবল এ আমেজ আবার সেই আগের অন্ধকারেই ফিরে যাবে?
পেশাদার ফুটবলার শাহিন মিয়ার ভাষ্য, যশোরের ফুটবল অন্ধকার জগতে চলে গেছে। উদীয়মানদের দিকে নজর নেই।
শেখ রিন্টু বা মোহম্মদ আশরাফের মতো সংগঠকরা চাইছেন, অবিলম্বে সাংগঠনিক সংকটের সমাধান করে লিগ চালু করতে। তাদের মতে, শুধু বিশ্বকাপ নিয়ে মাতামাতি করলে হবে না, স্থানীয় ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে মাঠে নিয়মিত খেলার বিকল্প নেই। যেখানে সারা দেশ বিশ্বকাপ নিয়ে মাতোয়ারা, সেখানে যশোর জেলার ফুটবল মাঠগুলো পড়ে আছে অবহেলায়। সাত বছর ধরে ঝুলে থাকা এই লিগ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না কারোরই।
ডিস্ট্রিক্ট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফএ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বলেছেন, গত সাত বছর প্রথম বিভাগ জেলা ফুটবল লিগ অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে যশোর ফুটবল এখনো ফুরিয়ে যায়নি।
তিনি জানালেন, সম্প্রতি যশোরে তরিকুল ইসলাম স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঠে তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা ছিল দেখার মতো। আশা করছি দ্রুত সাংগঠনিক সংকটের সমাধান করে লিগ চালু হবে। যশোরের ১৮টি ক্লাব এতে অংশ নেবে।




