আ. লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার
ওসির উপর ক্ষিপ্ত বিএনপি নেতার শাস্তির দাবি

আ. লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করায় ওসির উপর ক্ষিপ্ত বিএনপির নেতার শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ— সংগৃহীত ছবি
লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ওসির অপসারণ চাওয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। আজ রবিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির একাংশ এ দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুজ্জামান সবুজ বলেছেন, ‘লালমনিরহাট-২ আসনের মানুষ রোকন উদ্দিন বাবুলকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু মনোনয়নবঞ্চিত জাহাঙ্গীর আলম বিগত নির্বাচনে ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে জাহাঙ্গীর আলম উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।
শামছুজ্জামান সবুজ আরও বলেছেন, ‘বিএনপির আহ্বায়কের পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে নানাভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নাশকতা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া আজিজার রহমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রীর ভগ্নিপতি। তাকে গ্রেপ্তারের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওসির অপসারণের দাবি তুলে উপজেলার শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ‘বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে যারা ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনে সহায়তা করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারেক রহমান এবং বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামছুজ্জামান সবুজ বললেন, ‘ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপিকে অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় বিএনপিকে জানাব। আত্মীয়কে বাঁচানোর নামে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ কায়েমের অপচেষ্টাকারীদের কোনোভাবেই দলে স্থান দেওয়া যাবে না। যারা আত্মীয়কে বাঁচাতে না পেরে ক্ষিপ্ত, তারা কখনোই দল বা দেশকে ভালোবাসে না। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এর আগে একই দাবিতে উপজেলা বিএনপির ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি তুষভান্ডার বাজার ও লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয় চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়।
সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান কান্তি, জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ সালেহ আহমেদ, গজর উদ্দিন পাটোয়ারী, খালেকুজ্জামান হেলাল, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব কুদর-ই মেহেরবান মিঠু এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজ্জাকুর রহমান রাজ্জাকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।



