বেগম জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন: ভূমিমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জীবন দিয়ে তিনি মানুষের কাছ থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। তার রাজনৈতিক অবদান ও রাজশাহীর প্রতি ভূমিকার স্মরণে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা একটি ঐতিহাসিক নামফলক পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।’
আজ শনিবার সকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) হেডকোয়ার্টারে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে আরএমপির কার্যক্রম শুরুর নামফলক পুনঃস্থাপন ও উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বললেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মা। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম, তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে রাজশাহীতে আরএমপির শুভ সূচনা করেছিলেন। সে সময় এখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।’
তিনি আরও বললেন, ‘আজকের এই দিনে আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সমগ্র জাতি আজ তার জন্য কাঁদছে।’
তিনি আরো বললেন, ‘১৯৯২ সালে তিনি এই মাটিতে এসেছিলেন এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আরএমপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।’
রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকারের আমলে রাজশাহীর মানুষ ভালো ও সচ্ছল ছিল। পরবর্তী সময়ে অবৈধ চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অনেকে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে।’
আরএমপির প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বললেন, ‘ইতিমধ্যে আরএমপি আস্থা অর্জন করেছে। আমরা এখানে সকল নেতা আছি। এ বিষয়ে আমরা কেউ কখনো আপনাদের কিছু বলব না। আইন নিজস্ব গতিতে চলুক। আমার সন্তান যদি কোনো অন্যায় করে, তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেবেন।’
তিনি আরও বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তার নেতৃত্বে দেশ সুখী ও সমৃদ্ধিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরএমপি পুলিশ কমিশনার মো. ফয়েজুল কবির। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
এ ছাড়া রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম মাহমুদুর রহমানসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিন বিকেলে রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহী শুধু শিক্ষা ও সংস্কৃতির নগরী নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেরও এক গৌরবময় অধ্যায়ের নাম। একসময় বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাজশাহীর সাত-আটজন কৃতী সন্তান খেলেছেন। কাফি, মোহাম্মদসহ রাজশাহীর অনেক ক্রীড়াবিদের অবদান দেশের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। ক্রিকেটেও রাজশাহীর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে টেস্ট মর্যাদায় উন্নীত করার পথচলায় রাজশাহীর ক্রিকেটার ও সংগঠকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের বহু গৌরবময় অধ্যায়ের সঙ্গে রাজশাহীর নাম জড়িয়ে আছে।’
ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বললেন,, ‘ভলিবলেও একসময় রাজশাহী ছিল বাংলাদেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি। ব্যাডমিন্টনেও রাজশাহীর খেলোয়াড়েরা জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। ফলে বিভিন্ন খেলায় রাজশাহী তার নিজস্ব শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।’
বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের কথাও স্মরণ করেন মিজানুর রহমান মিনু।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল বারী সরদার, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট।




