আওয়ামী লীগ নেতা বললেন ‘বাকি জীবন জামায়াতের সঙ্গে কাটাতে চাই’

জামায়াত নেতাদের হাতে ফরম তুলে দেন আক্তার হোসেন মিলন
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আক্তার হোসেন মিলন নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অফিসকক্ষে।
দলবদলের এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে জানতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক দুজন শিক্ষক বলছিলেন, দলবদলের সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিজেই উপস্থিত ছিলেন।
তাদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ নেই। কিন্তু এক দল থেকে অন্য দলে যোগদানের বিষয়টি পুরোই রাজনৈতিক।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলছিলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জন্য নয়। কাজটি ঠিক হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বুধবার হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অফিসকক্ষে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতা মিলন ফরম পূরণ করেন। পরে জামায়াত নেতাদের হাতে ফরম তুলে দেন। এ সময় জামায়াত নেতারাও তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন নেন।
মিলন হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি ইউপি চেয়ারম্যান পদে তিনবার নির্বাচন করেছেন।
মাদ্রাসার অফিসকক্ষে তিনি যখন দলবদল করছিলেন তখন হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ জায়েদ হোসাইন ফারুকী, জামায়াতের সাবেক আমির হুমায়ুন কবির, মাতাব্বরনগর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলী হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
কমলনগর জামায়াতের সাবেক আমির হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেন, মিলন জামায়াতের নীতি-আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। জামায়াতে ইসলামী তা গ্রহণ করেছে।
সদ্য জামায়াতে যোগ দেওয়া আকতার হোসেন মিলন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বয়স হয়েছে। বাকি জীবন জামায়াতের সঙ্গে কাটাতে চাই। এখানে আমার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাকে সভাপতি পদ দিয়েছিল। এই পদের কোনো সুফল আমি নিইনি। এর কয়েকদিন পরই কাউন্সিলের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিনের ভাই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সভাপতি করা হয়।’




