ঝিনাইদহে জাল সনদে চাকরি, কলেজ অধ্যক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজে জাল সনদ ব্যবহার করে এক প্রভাষক দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন— ওঠেছে এমন অভিযোগ।
একই সঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ মো. সফিকুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোছা. নাসরিন নাহার। তিনি বর্তমানে কলেজটিতে কর্মরত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি ওই কলেজে করেন যোগদান। তখন প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল মহাবিদ্যালয়। পরবর্তীতে এটি শমসেরনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজে রূপান্তরিত হয়।
কলেজ সরকারিকরণের পর শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২১ সালে এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষকদের সনদ করা হয় যাচাই। সেই যাচাইয়ে নাসরিন নাহারের ২০০৯ সালের ৫ম শিক্ষক নিবন্ধন সনদকে জাল ও ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাকে থানায় মামলা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তার রোল নম্বরের তথ্য ও প্রাপ্ত নম্বর যাচাইয়ে পাওয়া যায় অসংগতি। যার ফলে সনদটি ভুয়া বলে মন্তব্য করে এনটিআরসিএ।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী সময়ে মাউশি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে তার পদ সৃজন ও নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে তার বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ছিল।
তবে ২০২৩ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে এবং পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে সৃজন হয় তার পদ। একই বছরের ১৪ ডিসেম্বর তাকে প্রভাষক (দর্শন) পদে অস্থায়ী নিয়োগ দিয়ে জারি করা হয় প্রজ্ঞাপন। ১৮ ডিসেম্বর তিনি সরকারিভাবে কলেজে যোগদান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রক্রিয়ায় কলেজের অধ্যক্ষ মো. সফিকুল ইসলাম আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সহযোগিতা করেছেন।
এ অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করে অধ্যক্ষ সফিকুল ইসলাম বললেন, ‘নাসরিন নাহারের সনদ জাল কি না তা আমার জানা নেই। পদ সৃজনের সময় শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দেখানো বাধ্যতামূলক ছিল না। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অভিযুক্ত শিক্ষক নাসরিন নাহারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি তাকে।
কলেজের আরেক প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মারুফ অভিযোগ করে বলছিলেন, জাল সনদ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তার পদ সৃজন ও সরকারি নিয়োগ হলো, তা তদন্তের দাবি রাখে। তার দাবি, এতে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাই দায় এড়াতে পারেন না।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেছেন, বিষয়টি এখনই জানা হলো। তদন্ত করে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।




