জীবননগর
যৌতুক না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন, গর্ভেই ঝরে গেল ৭ মাসের সন্তান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌতুক না পেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে। এতে গর্ভে থাকা সন্তান মারা গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাতে জানা যায়, কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে বিপ্লব একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে শিখা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব স্ত্রীকে চাপ দিয়ে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন যৌতুক হিসেবে দাবি করছিলেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় শিখাকে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ মে রাতে শিখাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে ২ জুন রাত ১০টার দিকে বিপ্লব বাড়ি ফিরে আবারও স্ত্রীকে গালাগালি করেন এবং এক লাখ টাকা, মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করেন। কিন্তু তার বাবার পারিবারিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এসব দেওয়া সম্ভব নয় জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে শিখাকে মারধর করেন এবং তার পেটে লাথি দেন।
স্বামীর এমন আঘাতে শিখা অচেতন হয়ে যান। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সাত মাসের গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিখা খাতুন জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হতো। নিয়মিত করা হতো নির্যাতন।
জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




