বজ্রপাত ঠেকাতে ৬ বছরে ৩০ হাজার তালবীজ রোপণ শরীফ খন্দকারের

তাড়াশ-মাগুরাবিদ এলাকায় তালবীজ রোপন করছেন ভিলেজ ভিশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. শরীফ খন্দকার। ছবি: আগামীর সময়
‘তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে/ সবগাছ ছাড়িয়ে/ উঁকি মারে আকাশে...।’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কবিতার মতো তালগাছ আকাশে উঁকি মারে বলেই বজ্রপাতের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বজ্রনিরোধক বৃক্ষ হিসেবেও তালগাছের পরিচিতি আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে বজ্রপাতের হার বেড়েছে, বেড়েছে প্রাণহানির ঘটনাও। সেই ঝুঁকি কমাতে তালগাছ রোপণকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভিলেজ ভিশন’।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. শরীফ খন্দকার ২০১৯ সাল থেকে চলনবিল অঞ্চলে তালবীজ (আঁটি) রোপণ কর্মসূচি শুরু করেন। গত ছয় বছরে তিনি ও সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা প্রায় ৩০ হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন।
চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ-সলঙ্গা, তাড়াশ-বারুহাঁস, তাড়াশ-নিমগাছি, তাড়াশ-মাগুড়াবিনোদ, তাড়াশ-রানীরহাট, গোন্তাবাজার-কাটাগাড়ি, সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্ট, চায়না বাঁধসহ বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ২ হাজার, ২০২০ সালে ৫ হাজার, ২০২১ সালে ৬ হাজার, ২০২২ সালে ৩ হাজার ৫০০, ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৫০০, ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে ৪ হাজার ৫০০ তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ৫০ হাজার তালবীজ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংগঠনটি।
তালবীজ রোপণের পাশাপাশি নানা মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্যও এলাকায় প্রশংসা কুড়াচ্ছে ‘ভিলেজ ভিশন’। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবক মাসুম বিল্লাহ, ইতি মিলনসহ অন্যরা জানান, ভিলেজ ভিশন’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নিতে পেরে তারা গর্ববোধ করেন। তাদের মতে, সবুজ দেশ গড়তে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে দেশের সব তরুণ-তরুণীর এগিয়ে আসা উচিত।
তাড়াশের প্রবীণ শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘মাত্র ৫০ জন উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবী তরুণ-তরুণীকে নিয়ে সংগঠনটি যেভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে পথশিশুদের শিক্ষা উপকরণ ও খাবার বিতরণ, অসচ্ছল শিশুদের গণখৎনা, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং সবুজ দেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের মতো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
সংগঠনটির উপদেষ্টা সমাজসেবক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সবুজায়নের অংশ হিসেবে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সড়ক, টিলা ও উঁচু ভিটায় ইতোমধ্যে এক লাখ খেজুর বীজ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া পঞ্চগড়, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকার ডেমরা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ হাজার তালবীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শরীফ খন্দকার জানান, প্রায় ১৯ বছর ধরে দেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদের সহায়তায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী তরুণ-তরুণীকে নিয়ে সংগঠনটি মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। পথশিশুদের সহযোগিতা, অসচ্ছল নারীদের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ, অসুস্থ বৃদ্ধদের ওষুধ ও পথ্য সহায়তা, শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সবুজ দেশ গড়তে ঔষধি, ছায়াবৃক্ষ ও বজ্রপাত নিরোধক তালবীজ রোপণ তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।
তিনি বলেছেন, ‘বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তালগাছের গুরুত্ব অনেক। তাই আমরা তালবীজ রোপণের এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চাই।’




