রংপুরে চার খুনের আসামির ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরে চার খুনের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া এক সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বড়ভাই পার্থ দাস এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
আজ শনিবার বিকালে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে খবরের কাগজের প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে হেনস্তা করেন পার্থ দাস। তার ব্যাগে অনেক কিছু রয়েছে দাবি করে উগ্র আচরণ করেন।
এ ঘটনায় পেশাগত কাজে বাধা ও হেনস্তার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে মৌন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ সময় হেনস্তার শিকার সাংবাদিক সেলিম সরকার জানান, চার খুনের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে ও সংবাদ সংগ্রহ করতে তিনজন সহকর্মীর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে পাশের বৈরাগীপাড়া এলাকায় যাওয়ার সময় পার্থ দাস তার মোটরসাইকেল আটকে দেন এবং চাবি কেড়ে নেন। গ্রেপ্তার আসামির ভাই পার্থ দাস চিৎকার করে আশপাশের লোকজন জড়ো করেন।
পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে পার্থ তাকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল আসে। পরে ডিবি সদস্যরা ব্যাগটি খুলে দেখান। সেখানে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ার পর তাকে যেতে দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আলমগীর হোসেন নামে আরেক সংবাদকর্মী জানান, একধরনের মব সৃষ্টি করে সাংবাদিককে হেনস্তা করে পার্থ দাস। এ সময় তারা কয়েকজন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও উল্টো সবাইকে দোষ দিয়ে রাগারাগি করেন পার্থ।
ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বলেন, প্রথম দিন থেকেই পার্থ এবং তার বাবা বিনয় একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা মাঝেমধ্যে উগ্র আচরণ করছেন। তাদের এমন পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলেই তারা সাংবাদিকদের ওপর ক্ষেপে যাচ্ছেন। তারা চাচ্ছেন না এখানে সংবাদকর্মীরা কাজ করতে আসুক।
আরেক সংবাদকর্মী বৈশাখী টিভির প্রতিনিধি মেজবাহুল হিমেল বলেন, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা গণমাধ্যমকর্মীরাই আসামিপক্ষের কথা তুলে ধরে আসছি। আজ সেই পার্থ দাস আমাদের হেনস্তা করেছেন, এটা দুঃখজনক।
পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক সেলিম সরকারকে আটক করে হেনস্তা করা হয়েছে। পরে ডিবির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে তার ব্যাগ খুলে দেখান। ব্যাগে ওই সাংবাদিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।








