উলিপুরে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

উলিপুরে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা। ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের উলিপুরে নাসরিন জাহান (২০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর মরদেহ বাড়িতে রেখে তারা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। মরদেহ উদ্ধারের সময় গৃহবধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার ফকির মোহাম্মদ নামানির চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গতকাল বিকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের স্বজনরা জানায়, উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের দোলন এলাকার নুর ইসলামের মেয়ে নাসরিন জাহানের সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে পাশের ফকির মোহাম্মদ নামানির চর এলাকার লালু মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেনের (২৫) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে আলমগীর তার স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার রাতে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাসরিনের সঙ্গে তার স্বামীর ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হলে মৃত্যু হয়। পরে মৃত্যুর বিষয়টি বুঝতে পেরে আলমগীরসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা পালিয়ে যান।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত নাসরিনের আড়াই বছর বয়সী লুজাই আক্তার নামে একটি ছেলে সন্তান আছে।
নিহতের বাবা নুর ইসলাম অভিযোগ করে বললেন, ‘বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য সময় নিয়েছিলাম। চলতি মৌসুমে ধান বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে আমার জামাতা আলমগীর হোসেনসহ তার পরিবারের লোকজন বাকি ৪৫ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। তারা প্রায়ই যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করত।’
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। গৃহবধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। শুক্রবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় মামলা করেছেন।




