ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দীনের জন্মজয়ন্তীতে স্মরণ ও সংগীত

ছবি: আগামীর সময়
ভাওয়াইয়ার সুর, স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে স্মরণ করা হয়েছে ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদকে। তার ১১৯তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার সিংগারডাবড়ীহাট-সংলগ্ন রাজারহাট লোকসংগীত একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় স্মরণসভা ও সংগীতানুষ্ঠানের।
একাডেমির সভাপতি নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক প্রধান।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড. মঈনুল হাসান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের লোকসংগীত শিল্পী পঞ্চানন রায়, উলিপুর ভাওয়াইয়া পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এবং সংস্কৃতি কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ভূপতি ভূষণ বর্মা, শিক্ষক, শিশুসাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তৌহিদ-উল ইসলাম এবং এস এম মজিবর রহমানসহ অন্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে নাজমুল ইসলাম বলেছেন, আব্বাসউদ্দীন আহমদ শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি উত্তরবঙ্গের লোকসংগীতের এক অনন্য প্রতীক। তার দরাজ কণ্ঠ ও অসাধারণ গায়কিতে ভাওয়াইয়া গান দেশ জুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। তার সংগীতসাধনা বাংলা লোকসংগীতকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভাওয়াইয়ার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক প্রধান বলেছেন, ‘বাঙালির শিকড় অনুসন্ধান করতে চাইলে আব্বাসউদ্দীনকে বাদ দিয়ে তা সম্ভব নয়। তার গানে আমরা ভাষা ও বাঙালিত্বকে খুঁজে পেয়েছি।’ এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি করে আয়োজনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যান্য বক্তা ভাওয়াইয়া গানের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নিয়মিত চর্চা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ সংগীতধারার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্মরণসভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় সংগীতানুষ্ঠান। ভাওয়াইয়ার সুরে মুখর হয়ে ওঠে একাডেমি প্রাঙ্গণ।




