বাদাম বিক্রেতা রাজুর স্বপ্নপূরণ, খোঁজ নিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানো বাদাম বিক্রেতা রাজু
সংসারে অভাব, বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী মা ও বৃদ্ধা নানিরভার কাঁধে নিয়ে যে তরুণ প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় বাদাম বিক্রি করেন সেই রাজু গাজী (১৯) এখন পুরো দেশজুড়ে আলোচনায়।
গত বৃহস্পতিবার খুলনার দাকোপের নলিয়ানে কড়া নিরাপত্তা ও প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি হাত মেলান এই তরুণ বাদাম বিক্রেতার সঙ্গে। ২৩ সেকেন্ডের সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছে এই লড়াকু তরুণের সঙ্গে।
জানা গেছে, সরকারি সফরের অংশ হিসেবে সুন্দরবন পরিদর্শনের পর গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নলিয়ান স্কুল মাঠ থেকে নলিয়ান লঞ্চঘাট এলাকা পর্যন্ত তিনি পায়ে হেঁটে যাত্রা করেন। এ সময় রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেওয়া হাজারো সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের উল্লাসিত অভ্যর্থনার জবাব দিতে প্রটোকল ভেঙে ফেলেন তিনি। পথিমধ্যে হঠাৎ দাঁড়িয়ে রাজুর দিকে হাত বাড়িয়ে দেন, সরাসরি হাত মেলান এবং তার সাথে তিনি কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে রাজুকে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলতে দেখা যায়, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার, আমার খুব ভালো লাগছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমি কার সঙ্গে কথা বললাম! আমার স্বপ্ন আজ সার্থক। বাদাম বিক্রি করি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে হাত মিলিয়েছি আর কী লাগে ভাই!’
ভিডিওটি দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি ফোন করা হয় রাজুর কাছে। রাজু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার এবং তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি বিস্তারিত বর্তমান ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজুর বাড়ি দাকোপের সদর চালনা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আঁচাবুয়া গ্রামে। সেখানে একটি ভাড়া বাড়িতে তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। রাজুর যখন ৫ বছর বয়স তখন তার বাবা তাদের ফেলে চলে যান। এরপর বৃদ্ধা নানি বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী মাকে নিয়ে রাজুকে বড় করেন। বর্তমানে নানি, প্রতিবন্ধী মা ও ছোট ভাই আছে রাজুর। এই চারজনের সংসারের পুরো ভার রাজুর কাঁধে। জীবনের চরম অনটনের মধ্যেও পড়ালেখার অদম্য বাসনা ছাড়েননি রাজু। বর্তমানে চালনা কেসি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের খাবার জোগাতে প্রতিদিন পানখালি ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বুট ও বাদাম বিক্রি করেন রাজু।
তরুণ বাদাম বিক্রেতা রাজু গাজী আগামীর সময়কে বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আসবেন শুনে তাকে একনজর দেখতে এবং কিছু বাদাম বিক্রি করতে নলিয়ান গিয়েছিলাম। চারপাশের কড়া পুলিশ ও প্রটোকল দেখে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল, ভেবেছিলাম হয়তো আমার স্বপ্ন আর পূরণ হবে না। কিন্তু সৌভাগ্যবশত তিনি পথ দিয়ে যাওয়ার সময় নিজ থেকেই আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেন এবং আমার সাথে কথা বলেন। এতে আমার জীবনে অন্যরকম এক অনুভূতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন করে আমার পরিবারের বিস্তারিত জানতে চাইলে আমি অভিভূত হয়ে পড়ি।’



