শরীয়তপুরে ১০০ বছরের পুরনো রাস্তা বন্ধ, কাঁটাতারে অবরুদ্ধ ৮ পরিবার

ছবি: আগামীর সময়
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের দক্ষিণ হালইসার গ্রামে ১০০ বছরের পুরনো একটি যাতায়াতের রাস্তা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে। এর ফলে ওই এলাকার আট পরিবারের সদস্য গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ বিষয় ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম নামে এক নারী গত ৬ জুলাই নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার ওপর দেওয়া কাঁটাতারের বেড়া সরানোর চেষ্টা করছেন। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, যেন কোনো সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া সরানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী পরিবার আটটি পরিবারের শতবর্ষের পুরনো চলাচলের রাস্তা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রেখেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের দক্ষিণ হালইসার গ্রামের মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার প্রায় ২০ দিন আগে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি তাদের একমাত্র যাতায়াতের পথ। বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।
রাস্তা বন্ধ থাকায় আটটি পরিবারের সদস্যরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা বেশি ভোগান্তিতে আছেন। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। হাট-বাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসায়ও যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এতে পরিবারগুলো কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তাটি ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হঠাৎ করে প্রভাবশালী একটি পক্ষ রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন।
প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত রাস্তাটি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুল ইসলাম হাওলাদার। তিনি বললেন, ‘আমি আমার নিজের জায়গা বন্ধ করেছি। এখানে কোনো রাস্তা ছিল না।’
ঘড়িসার ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বললেন, ভুক্তভোগী পরিবার তার কাছে এসেছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। রাস্তার ওপর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেড়া অপসারণের দাবি জানান।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান জানালেন, বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত তদন্ত করে দুই পক্ষকে বসিয়ে সমাধানের চেষ্টা করব। বাড়ির যাতায়াতের পথে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া খুবই দুঃখজনক।




