লেবু বিক্রি করে বছরে অর্ধকোটি টাকা আয় ঈশ্বরদীর শাহিনের

সিডলেস জাতের লেবু চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন ঈশ্বরদীর শাহিনুজ্জামান শাহিন। ছবি: আগামীর সময়
পাবনার ঈশ্বরদীতে চায়না থ্রি (সিডলেস) জাতের লেবু চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহিনুজ্জামান শাহিন। মাত্র দেড় লাখ টাকা প্রাথমিক বিনিয়োগে গড়ে তোলা ১১ বিঘার বাগান থেকে তিনি এখন বছরে আয় করছেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
শাহিন ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ইমান সরদারের ছেলে। ২০২০ সালে বাণিজ্যিক কৃষিখামারে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক পান তিনি। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামে ১০ বিঘা এবং নিজের বাড়ির পাশে এক বিঘা জমিতে লেবু চাষ করছেন। তার বাগানে চার বছর বয়সী এক হাজারের বেশি সিডলেস জাতের গাছ আছে। পাশাপাশি আছে দেশি জাতের ১০০টি গাছ।
শাহিনুজ্জামান জানান, একসময় ঈশ্বরদী শহরে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন তিনি। পরে ব্যবসা ছেড়ে পৈতৃক জমিতে কৃষিকাজ শুরু করেন। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি পুরোদমে চাষাবাদ করছেন। ২০২০ সালে নয় ধরনের ফসল চাষ করে রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এরপর ২০২১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিটি গাছ থেকে বছরে এক হাজারের বেশি লেবু পান। বাগান থেকে টানা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ফলন পাওয়া যাবে।
শাহিন আরও জানালেন, ১১ বিঘা জমিতে লেবুর বাগান গড়ে তুলতে প্রাথমিকভাবে তার খরচ হয়েছিল মাত্র দেড় লাখ টাকা। বর্তমানে বাগানের পরিচর্যা, ঘাস পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ বিভাগ থেকে সৌরশক্তিচালিত ডাগওয়েল বা পাতকুয়া স্থাপন করে দেওয়ায় সারা বছর বাগানে সেচের সুবিধা পাচ্ছেন।
লেবুর গ্রাম বৈলতলা
৩০ অক্টোবর ২০২৬
তবে উৎপাদন বেশি হলেও মৌসুমভেদে ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শাহিন। তিনি জানান, আষাঢ় মাসে গাছে সবচেয়ে বেশি লেবু ধরে। কিন্তু ওই সময় বাজারে দাম এত কমে যায় যে বাগান থেকে লেবু তুলে বাজারে নেওয়ার পরিবহন খরচও ওঠে না।
তার অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তারা একটি কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপনের আশ্বাস দিলেও পরে আর সহযোগিতা করেননি। হিমাগারের ব্যবস্থা করা গেলে লেবু সংরক্ষণ করে রমজানসহ চাহিদার মৌসুমে বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হতো। এতে বছরে আরও ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় বাড়তে পারে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন জানিয়েছেন, উপজেলায় প্রায় ৪০ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়। এর মধ্যে শাহিনের একারই ১১ বিঘা জমিতে লেবুর বাগান রয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানার তত্ত্বাবধানে কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত তার বাগানের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




