২৫ বছর পর আবার একসাথে, বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসে মুখর

সময়ের স্রোত অনেক কিছু বদলে দেয়। স্কুলের বেঞ্চ, মাঠের আড্ডা, পরীক্ষার দুশ্চিন্তা কিংবা টিফিন ভাগাভাগির সেই দিনগুলো যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে। কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুত্ব কখনও হারিয়ে যায় না। তারই প্রমাণ মিলল রাজবাড়ীর এসএসসি ২০০১ ব্যাচের বন্ধুদের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনের আয়োজনে।
সম্প্রতি রাজবাড়ীর মনোরম পরিবেশে অবস্থিত চিতল বিল গার্ডেন অ্যান্ড স্পোর্টসে অনুষ্ঠিত হয় ‘২৫ বছর পর একসাথে-বন্ধুত্বের উদযাপন’ এই মিলনমেলা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মজীবী বন্ধুদের পাশাপাশি সুদূর ইংল্যান্ড থেকেও বন্ধু ছুটে আসেন এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নিতে। দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে যেন ফিরে আসে কৈশোরের সেই সোনালি দিনগুলো।
সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে ভরে ওঠে পুরো ভেন্যু। সুন্দরভাবে সাজানো আয়োজনস্থলে বন্ধু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানানো হয় আন্তরিক আপ্যায়নের মাধ্যমে। সকালের নাস্তা দিয়ে শুরু হওয়া দিনের আয়োজন ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক আনন্দমুখর মিলনোৎসবে।
এরই মাঝে স্মৃতির পাতা উল্টে আবারও প্রাণ ফিরে পায় রাজবাড়ী সরকারি কলেজের খেলার মাঠ। সেখানে বন্ধুদের অংশগ্রহণে জমে ওঠে ক্রিকেট খেলা। অনেকেই বলছিলেন, যেন ২৫ বছর আগের সেই স্কুলজীবনই আবার ফিরে এসেছে। হাসি-ঠাট্টা, উচ্ছ্বাস আর বন্ধুত্বের খুনসুটি মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুরে পরিবেশন করা হয় সুস্বাদু কাচ্চিসহ নানা ধরনের খাবার। ভোজনপর্ব শেষে শুরু হয় শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন। বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল বন্ধুদের সন্তানদের জন্য। একই সঙ্গে পরিবার ও বন্ধুদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় নানা মজার প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলা, যা পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
দিন গড়াতে গড়াতে সন্ধ্যা নামে। আর সন্ধ্যার পর শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একের পর এক গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত সবাই। মঞ্চে উঠে অনেকেই ভাগাভাগি করেন নিজেদের স্মৃতি, অনুভূতি ও জীবনের গল্প।
তবে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল কনসার্ট। রাজবাড়ীর জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘বিলিভার্স’-এর পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। তাদের গাওয়া প্রিয় গানগুলোতে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত বন্ধুরা। কেউ মোবাইলে বন্দি করেন মুহূর্তগুলো, কেউবা হারিয়ে যান স্মৃতির গভীরে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। কিন্তু শেষ হয় না অনুভূতির রেশ। বিদায়ের মুহূর্তে অনেকের চোখে ছিল আবেগের ছাপ, কণ্ঠে ছিল আবারও মিলিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি।
২৫ বছর পরের এই পুনর্মিলনী শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল বন্ধুত্ব, স্মৃতি, ভালোবাসা আর একসাথে পথচলার গল্প। জীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো আবারও একদিনের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন সেই চেনা দিনে, যেখানে পরিচয়ের আগে ছিল শুধু একটি সম্পর্ক-বন্ধুত্ব।








