কাউছার হত্যা মামলার মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২

ময়মনসিংহের পাগলা থানার বহুল আলোচিত কাউছার আলম হত্যা মামলার মূলহোতাসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রিটন মিয়া (৫৫) ও ফারুক (৩২)। তাদের বাড়ি গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায়।
পুলিশ জানায়, গত ২০ মে সন্ধ্যায় কাউছার আলম (৪৫) নতুন চাকরির সন্ধানে নিজের মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হন। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে পাগলা থানা এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার পর মরদেহ একটি জামগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। মাথা ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পাগলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ও জেলা গোয়েন্দা শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ডিবির একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মে সকালে পাগলা থানার মশাখালী টানপাড়া এলাকা থেকে রিটন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তার ভাষ্য, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কাউছার আলমকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি জামগাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এরপর ১ জুন সন্ধ্যায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফারুক জানান, তার স্ত্রীর বড় বোনের সঙ্গে কাউছার আলমের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ ও ক্ষোভ থেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়।
পুলিশ জানায়, ফারুকের বিরুদ্ধে এর আগে সাতটি মামলা রয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




