আগাম কেরালা শিম চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের রাজু

আগাম জাতের কেরালা শিম চাষ করেছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের রাজু মিয়া। ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আগাম জাতের কেরালা শিম চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক রাজু মিয়া (৪০)। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের পাঁচগাছি ব্লকের মালদহ গ্রামের এ কৃষক ২০ শতাংশ জমিতে ১৩৩টি শিমগাছ লাগিয়েছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
আবহাওয়া ও বাজার অনুকূলে থাকলে ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি। প্রত্যাশিত ফলন ও ভালো দাম পেলে এ চাষ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে বলে মনে করছেন রাজু।
রাজু মিয়া জানিয়েছেন, তুলনামূলক কম সময়ে ফলন পাওয়ার আশায় তিনি আগাম জাতের কেরালা শিম চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। জমি প্রস্তুত, গাছ লাগানো ও পরিচর্যাসহ বিভিন্ন কাজে এরই মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন গাছের বৃদ্ধি ও ফলনের দিকে নজর রাখছেন।
রাজুর প্রত্যাশা, মৌসুমের শুরুতে শিম বাজারজাত করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে সংসারে বাড়তি আয় যোগ করা সম্ভব হবে। কৃষিকাজে ব্যয় বাড়তে থাকায় সীমিত জমিতে লাভজনক ফসল উৎপাদনের চেষ্টা করছেন। তবে কাঙ্ক্ষিত লাভ নির্ভর করবে ফলনের পরিমাণ, উৎপাদন খরচ ও বাজারদরের ওপর।
একই এলাকার কৃষক সোহেল রানা জানিয়েছেন, আগাম সবজি চাষে সঠিক জাত নির্বাচন ও সময়মতো পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকলে কৃষকরা তুলনামূলক ভালো দাম পেতে পারেন। তবে এ ধরনের চাষে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, রোগবালাই ও উৎপাদন খরচের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হয়। পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করতে পারলে লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি আগাম সবজি চাষ কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাজারের চাহিদা বুঝে সঠিক সময়ে সবজি উৎপাদন ও বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে নতুন জাতের সবজি চাষের আগে মাটির উপযোগিতা, বীজের মান, পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য বাজারদর সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি।
নবাবগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সবজি চাষে ভালো ফলন পেতে মানসম্মত বীজ নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি চাষের শুরু থেকেই উৎপাদন খরচের হিসাব রাখা প্রয়োজন। পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি লাভের সম্ভাবনাও বাড়ানো সম্ভব।




