মাদারীপুর
বিলপদ্মার চরে কাবাডির উন্মাদনা, মেতে উঠল হাজারো প্রাণ

ছবি: আগামীর সময়
সবুজ প্রকৃতি আর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে যেন ফিরে এসেছে গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য। বিলপদ্মা নদীর পাড়ে জেগে ওঠা ছিলারচরের খোলা মাঠে জমে উঠেছিল দেশের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় খেলা কাবাডি। দীর্ঘদিন পর এমন একটি আয়োজনকে ঘিরে শিশু-কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণ—নানা বয়সী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা।
শনিবার দুপুরের পর থেকেই মাদারীপুর শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের এই চরে নামতে শুরু করে দর্শকদের ঢল। প্রখর রোদ উপেক্ষা করেই মাঠে জড়ো হন হাজারো মানুষ। ‘স্বপ্নের আলো মানবিক সংগঠন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি খেলাই ছিল না; বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস ছিল।
একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ছিল কাবাডি বা হাডুডু। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সময়ে সেই চেনা খেলা এখন অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। ফলে দীর্ঘদিন পর জাতীয় খেলার এমন জমজমাট আয়োজন দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন দর্শকেরা। ৪০ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মাঠজুড়ে এক দারুণ উত্তেজনা তৈরি হয়। খেলোয়াড়দের প্রতিটি আক্রমণ ও প্রতিরোধের সাথে সাথে দর্শকদের করতালি আর উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে চরাঞ্চলের শান্ত প্রান্তর।
এই প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি অংশ নেয় ‘প্রবাসী কিং ক্লাব’ ও ‘বাংলার দামাল দল’। মাঠের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে ১-০ সেটে জয়লাভ করে ট্রফি নিজেদের করে নেয় বাংলার দামাল দল। খেলা শেষে অংশগ্রহণকারী দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, নগদ অর্থ এবং রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা।
পরিবার নিয়ে খেলা দেখতে আসা দর্শক সুমাইয়া আক্তার আনন্দের অনুভূতি ভাগ করে বললেন, 'পরিবারের সবাই মিলে খেলা উপভোগ করেছি। ঈদের তৃতীয় দিনে এমন আয়োজন সত্যিই দারুণ এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এটি শুধু বিনোদন নয়, আমাদের সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় করেছে।'
আরেক দর্শক নাসির উদ্দিন লিটন জানান, হাজার হাজার মানুষের সাথে পরিবার-পরিজন নিয়ে এমন চমৎকার সময় কাটানো চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এক বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ।
মাঠের লড়াই শেষে খেলোয়াড় আজিজুল আকন জানালেন, 'জয়-পরাজয় বড় বিষয় নয়। আমরা মানুষকে আনন্দ দিতে পেরেছি, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।'
আরেক খেলোয়াড় নুর আলম জানান, আগে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত হাডুডু খেলা হলেও এখন আর তেমন দেখা যায় না। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে এই হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো আবারও বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।
আয়োজক মো. ফজলুল হাওলাদার জানান, যুবসমাজকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। স্বপ্নের আলো মানবিক সংগঠনের লক্ষ্যই হলো যুবসমাজকে সুস্থ ও ইতিবাচক পথে পরিচালিত করা। তাই শুধু কাবাডি নয়, ভবিষ্যতে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক খেলার নিয়মিত আয়োজন করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক এ ধরনের আয়োজন কেবল বিনোদনের উৎস নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। তাই বছরের বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে এমন খেলার আয়োজন নিয়মিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।






