আখাউড়া
চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ মাদরাসাগুলো

ছবি: আগামীর সময়
কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে আশানুরূপ মূল্য না পাওয়ায় হতাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কয়েকটি কওমি মাদরাসা। স্থানীয় বাজারে ক্রেতার সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে তারা প্রতি চামড়া মাত্র ৩৬০ টাকায় বিক্রি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা তাৎক্ষণিক অর্থ পরিশোধ না করে এক মাস পর টাকা দেওয়ার শর্তও দিয়েছেন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোরবানির পশুর চামড়ার অর্থ দিয়ে সাধারণত লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিম শিক্ষার্থীদের ব্যয় নির্বাহ করা হয়। কিন্তু এবার কম দামে চামড়া বিক্রি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আগের বছরের মতো এবারও বিভিন্ন কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। তবে সংগ্রহের পর চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে তারা চরম সংকটে পড়েন। বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় অনেকেই কম দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন।
আখাউড়ার মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আসয়াদ আল হাবীব জানান, তাদের মাদরাসা ৫০০টি চামড়া সংগ্রহ করেছিল। সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রতি চামড়া ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে।
তার ভাষ্য, ক্রেতা এক মাস পর টাকা পরিশোধের কথা জানিয়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী বছর তারা চামড়া সংগ্রহ করবেন না।
একাধিক মাদরাসা শিক্ষক অভিযোগ করেন, চামড়ার বাজারে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় প্রকৃত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গরিব ও এতিম শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, কোরবানির চামড়ার অর্থ মূলত অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল আহমেদ উল্লেখ করেন, আগে চামড়া বিক্রির অর্থ গরিব, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় তারা সেই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী বিল্লাল আহমেদ জানান, গত বছর চামড়া কিনে লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। এজন্য এবার তিনি চামড়া কেনেননি।
মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের দাবি, চামড়া শিল্পকে রক্ষায় বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, চামড়ার সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা গেলে একদিকে মাদরাসাগুলো উপকৃত হবে, অন্যদিকে দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পও ঘুরে দাঁড়াবে।
এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আগে থেকেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদরাসাগুলোতে সরকারি উদ্যোগে লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত দামের বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ে কোনো বিশেষ নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।







