ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ ডেপুটি স্পিকারের

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
শনিবার বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে এ অভিযোগ করেছেন ডেপুটি স্পিকার। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেছেন, নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারিতা তুলে ধরেছিলেন তিনি। দলমত নির্বিশেষে মানুষ আস্থা রেখেছে তার ওপর। তাই তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে হতদরিদ্র, অতিদরিদ্র ও দরিদ্র মানুষকে। অনেক অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন তিনি। কিন্তু তাদের অনেকের নামই সেই তালিকায় নেই।
তার ভাষ্য, তালিকায় অগ্রাধিকার পাবে কেবল প্রকৃত হতদরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষ। এ ক্ষেত্রে মেনে নেওয়া হবে না কোনো ধরনের পক্ষপাত বা অব্যবস্থাপনা।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা যথাযথ নিয়মে হয়নি। যারা প্রকৃত হতদরিদ্র, তাদের সবার আগে তালিকায় আনতে হবে। কোনোভাবেই যোগ্য মানুষ যেন বাদ না পড়ে।’
এ বিষয়ে ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক। ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলেও করেছেন সতর্ক।
প্রথম পর্যায়ে কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৭৯৪ জন নারীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। এ কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার মুশফিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক, জেলা পরিষদ প্রশাসক নুরুজ্জামান নুরু, পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, অনেক প্রকৃত দরিদ্র পরিবার এখনো তালিকার বাইরে রয়েছে। আবার তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারের নামও এসেছে তালিকায়। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এলাকায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিকাইল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই করে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের আশ্বাসও দেন তিনি।
কলমাকান্দার সীমান্ত ও পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘদিনের সমস্যা দারিদ্র্য। স্থানীয়দের আশা, প্রকৃত অসহায় পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিলে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম থেকে বেশি উপকৃত হবে দরিদ্র মানুষেরা।




