পিরোজপুর
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫, আটক ১

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। ছবি: আগামীর সময়
পিরোজপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় মো. নাফিস আহমেদ সিয়াম নামে এক বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পিরোজপুর পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন— জিয়ানগর উপজেলার মিজান মাতুব্বরের ছেলে জিহাদ মাতুব্বর (২০), সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামের মাহিদুলের ছেলে মো. নাইম (১৯), মাছিমপুর গ্রামের শান (১৮), কালিবাড়ি এলাকার মিঠুর ছেলে মো. তাশফি (১৯) এবং শিকারপুর গ্রামের আউয়ালের ছেলে মো. নিরব (১৯)।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এর জেরে গত সোমবার সন্ধ্যায় এক পক্ষ অপর পক্ষের এক সদস্যকে হাতুড়িপেটা করে। ওই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তারা জানিয়েছেন, আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। জিহাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পিরোজপুর পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শাওন (বাবু) বলেছেন, ‘ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার হওয়া নাফিস আহমেদের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে এসে হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আমাদের কর্মীদের জখম করে।’
পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বললেন, ‘আমি বর্তমানে সাংগঠনিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি, তবে ঘটনাটি জেনেছি। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন আগেই দল থেকে বহিষ্কৃত। এ ঘটনায় ছাত্রদলের বর্তমান কোনো নেতা-কর্মী জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



