রেশমের শহরে দৌড়ের ছন্দ, ‘সিল্ক সিটি’কে ছুঁয়ে গেল ১২০০ রানার

ছবি: আগামীর সময়
ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। রাজশাহী নগরীর রাজপথে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছেন নানা বয়সী মানুষ। কারও গায়ে দৌড়ের পোশাক, কারও হাতে পানির বোতল। কেউ এসেছেন একা, কেউ দল বেঁধে। সবার গন্তব্য এক- দৌড়ের মাধ্যমে রাজশাহীর ‘সিল্ক সিটি’ পরিচয়কে নতুন করে তুলে ধরা। সেই লক্ষ্যেই শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত হলো ১০ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ ম্যারাথন ‘রান ফর সিল্ক সিটি ২০২৬’।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সামনে থেকে শুরু হয় এই ম্যারাথন। সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটির আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১ হাজার ২০০ জন রানার এতে অংশ নেন।
নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক- বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সকাল থেকেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে রাজশাহীর সড়ক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে ফিতা কেটে ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সামনে থেকে শুরু হওয়া ১০ কিলোমিটারের দৌড়টি ভদ্রা মোড়, তালাইমারি ও সাহেব বাজার হয়ে হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সামনে গিয়ে শেষ হয়। দৌড় শেষে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় মেডেল বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান।
আয়োজকদের ভাষ্য, রাজশাহীর রেশম শিল্পের ঐতিহ্য এবং ‘সিল্ক সিটি’ হিসেবে শহরের পরিচিতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি দৌড় ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মানুষকে উৎসাহিত করাও ছিল এ আয়োজনের লক্ষ্য।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, রাজশাহী শুধু শিক্ষানগরী নয়, ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পের জন্যও পরিচিত। ‘সিল্ক সিটি’ হিসেবে রাজশাহীর ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বললেন, নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। রাজশাহীকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
রাসিক প্রশাসক আরও বললেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতায় সিল্ক সিটির ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীতে রাজশাহী আরও আধুনিক, সুন্দর ও সমৃদ্ধ সিল্ক নগরীতে পরিণত হবে।
তিনি বলেছেন, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজশাহীর ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদ, সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটির প্রধান উপদেষ্টা মো. মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, এনসিসি ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ওমর শরীফ, রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল নাঈম আব্দুল্লাহ এবং সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম সানি। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির উপদেষ্টা মোসা. রিক্তা পারভিন।
আয়োজকরা জানালেন, রাজশাহীতে এবারই প্রথম এত বড় পরিসরে ১০ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন রানার এতে অংশ নেন। বয়সের ভিন্নতা ভুলে সবাই একই সঙ্গে দৌড়েছেন নগরীর রাজপথে-কেউ প্রতিযোগিতার জন্য, কেউ সুস্থতার বার্তা দিতে, আবার কেউ রাজশাহীর ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে।
আয়োজকদের মতে, রেশমের ঐতিহ্যে পরিচিত রাজশাহীকে দৌড়ের মতো একটি স্বাস্থ্যকর ও প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



