মৌলভীবাজার
যোগদানের পর বিক্রি করলেন গরু, সরকারি জায়গায় মার্কেট বানালেন এসপি

ছবি: আগামীর সময়
মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর রহমান সড়কে অবস্থিত পুরাতন সদর থানার জায়গায় লিখিত অনুমতি ছাড়াই একটি বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এ ধরনের বাণিজ্যিক নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন জানান, বড় ধরনের স্থাপনা নির্মাণে সাধারণত পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তবে এই মার্কেট নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ‘মৌখিক অনুমতি’ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। যদিও সেই কর্তৃপক্ষের পরিচয় তিনি স্পষ্ট করেননি। তার ভাষ্য, মার্কেটটি পুলিশের কল্যাণে নির্মাণ করা হয়েছে। জানা গেছে, তিনি গত বছরের ২৯ নভেম্বর মৌলভীবাজারে যোগ দেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি সম্পত্তিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক। লিখিত অনুমতি ছাড়া নির্মাণ কাজ হওয়ায় পুরো বিষয়টি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
অনুমতির বিষয়ে জানতে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে রেঞ্জ কার্যালয়ে ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট শাখার পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) নাছির উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, এ ধরনের কোনো অনুমতির বিষয়ে তিনি অবগত নন। অনুমতি নেওয়া হলে তা তার জানা থাকার কথা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একই তথ্য দেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেভিনিউ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. আজিজুল ইসলাম। তিনি জানান, এ ধরনের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তার জানা নেই এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ১৩৫০ বর্গফুটে নির্মিত মার্কেটটির ৯টি কোটার মধ্যে ৭টিতে ইতোমধ্যে ভাড়াটিয়ারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাকি ২টি কোটা পুনাকের জন্য রাখা হয়েছে। শুভ নামে এক ভাড়াটিয়া জানান, ৫ বছরের জন্য ৩ লাখ টাকায় চুক্তিতে তিনি একটি কোটা নিয়েছেন, যার মাসিক ভাড়া ৭ হাজার টাকা।
এদিকে শুধু মার্কেট নির্মাণ নয়, পূর্ববর্তী পুলিশ সুপারের সময়ে চালু হওয়া ‘আপনার এসপি’ নামের জনসেবামূলক উদ্যোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সেবার মাধ্যমে জেলার সাতটি থানায় বসেই নাগরিকরা ভিডিও কলে এসপির সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারতেন। বর্তমানে থানাগুলোতে এই সেবা আর পাওয়া যাচ্ছে না বলে সেবাগ্রহীতারা জানান।
এছাড়া পুলিশ লাইন্সে সদস্যদের সুবিধার্থে রাখা গরু বিক্রির বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান পুলিশ সুপার জানান, সেখানে চারটি গরু ও তিনটি বাছুর ছিল। এর মধ্যে একটি গরু মারা যাওয়ায় এবং পুলিশ লাইনে গরু রাখার নিয়ম না থাকায় বাকিগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে বিক্রির প্রক্রিয়া ও অর্থের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
পুলিশ লাইন্সের একাধিক সদস্য জানান, আগে তারা ৪০ টাকা লিটারে স্বল্পমূল্যে দুধ পেতেন, যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।




