দারিদ্র্যের কষাঘাতে থমকে গেছে চিকিৎসা
চোখের আলো ফিরে পেতে সাহায্য চান আরিফা

সংগৃহীত ছবি
দারিদ্র্যের নির্মম আঘাতে থমকে গেছে ছয় বছরের শিশু আরিফা ইসলামের চিকিৎসা। যে বয়সে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা আর স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে চোখের তীব্র যন্ত্রণায় ঘরের এক কোণে বসে কাঁদছে ছোট্ট শিশুটি। দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না পেলে তার দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ হারানোর আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহাদাত কাজী ও হনুফা বেগম দম্পতির মেয়ে আরিফা ইসলাম।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় ছয় মাস আগে এক দুর্ঘটনায় তার চোখে সুপার গ্লু জাতীয় আঠা লেগে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়। এতে চোখ ফুলে যায় ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরিবারটি ধারদেনা করে কয়েকদিন চিকিৎসা চালালেও অর্থের অভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দিন দিন তার চোখের অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারায় চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে আরিফার মা হনুফা বেগম ভিক্ষা করে যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চলে।
এলাকাবাসী জানান, আমরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু অর্থ সহায়তা দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বসতঘর মেরামতে সহযোগিতা করেছি। তবে চোখের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। তাই বিত্তশালী লোক ও সরকারের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা এগিয়ে আসলেই এই দৃষ্টিহীনতা শিশুটি আলোর মুখ দেখতে পারবে।
দৃষ্টি হারানো ছোট শিশু আরিফা ইসলাম কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলছিলেন, আপনারা আমার পাশে দাঁড়ান। আমি চোখের আলো ফিরে পেতে চাই। আপনারা যদি আমার পাশে না দাঁড়ান। আমারে যদি সাহায্য না করেন তাহলে আমি চোখের আর আলো দেখতে পারব না।
‘মেয়ের চোখের যন্ত্রণা আর সহ্য হয় না’, জানিয়ে আরিফার মা হনুফা বেগম বলছিলেন, টাকার অভাবে কিছুই করতে পারছি না। মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে যা পাই, তাতে সংসার চালানোই কঠিন। চিকিৎসা তো দূরের কথা।
এসময় তিনি, সমাজের বিত্তবান ও সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব সহায়তার আশ্বাস দিয়ে জানান, এই শিশুটিকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা দেওয়া হবে।






