মাত্র ৬ হাজার টাকার পুঁজি, লক্ষ্য নিরাপদ খাদ্য

ছবি: আগামীর সময়
মানুষের হাতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী স্বপ্ন বুনছেন গাজীপুরের কাপাসিয়ার তরুণ রায়হান। মাত্র ৬ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা তার উদ্যোগ 'রায়হান রিজন অনলাইন শপ' এখন স্থানীয়দের কাছে আস্থার এক চেনা নাম।
উচ্চশিক্ষার সনদ হাতে নিয়ে আর দশটা তরুণের মতো চাকরির পেছনে ছোটেননি রায়হান। কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক এবং ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের স্বপ্ন আর সততাকে পুঁজি করে নেমে পড়েন উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াইয়ে। বর্তমানে তার এই উদ্যোগের ওপরই সচ্ছলভাবে নির্ভর করছে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবার।
রায়হান বললেন, 'মানুষ এখন ভেজাল খাদ্যের কারণে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করছে চিকিৎসা ও ওষুধের পেছনে। অনেক মানুষ ও শিশু প্রতিনিয়ত ভেজাল খাবার খেয়ে নীরবে কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, এমনকি মারাও যাচ্ছে। তাই আমরা চাই মানুষ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়ে সুস্থ থাকুক। এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।'
অনলাইনের পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছাকাছি পৌঁছাতে এক দারুণ কৌশল বেছে নিয়েছেন রায়হান। কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ডের তাজউদ্দীন আহমদ চত্বরে প্রতিদিন বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে তার একটি ভ্রাম্যমাণ দোকান।
কী নেই তার এই শপে? খাঁটি মধু, খাঁটি ঘি, বিটরুট পাউডার, চিয়া সিড, মরিঙ্গা পাউডার, খাঁটি নারিকেল তেল, খাঁটি সরিষার তেল এবং বগুড়ার বিখ্যাত দই। তবে এর বাইরে আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হলো হোমমেড কেক, যা নিজ হাতে তৈরি করেন রায়হানের স্ত্রী।
স্বামীর ব্যবসায়িক যাত্রার সহযোদ্ধা হয়ে তার স্ত্রী বললেন, 'শুরুতে আমরা খুব ছোট পরিসরে কাজ শুরু করি। এখন মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা আমাদের অনেক সাহস দিচ্ছে। আমরা চাই ঘরে তৈরি নিরাপদ খাবার আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।'
পণ্যের মান ভালো হলে যে ক্রেতারা লুফে নেন, তার প্রমাণ মিলল স্থানীয় ক্রেতাদের কথায়। সুমাইয়া আক্তার নামের এক নিয়মিত ক্রেতার ভাষ্য, 'আমি কয়েকবার এখান থেকে মধু ও কেক কিনেছি। স্বাদ ও মান দুটোই ভালো। সবচেয়ে বড় কথা, তারা পণ্যের মান নিয়ে দারুণ সচেতন।
আরেক ক্রেতা মো. হাবিবুর রহমান তরুণের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেন, বর্তমানে বাজারে ভেজালমুক্ত পণ্য পাওয়া কঠিন। রায়হানের উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তরুণরা এভাবে উদ্যোক্তা হলে সমাজও উপকৃত হবে।
শুধু বর্তমান নিয়ে পড়ে থাকতে চান না রায়হান, নিজেকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করছেন তিনি। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইফাত এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি ‘অন-দ্য-জব’ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রায়হান জানালেন, তারা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে শুধু কাপাসিয়ায় নয়, বরং সারা দেশে সরবরাহ করতে চান।
পরিশ্রম আর সততার ফলও পাচ্ছেন হাতেনাতে। মাত্র ৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়া এই ব্যবসা থেকে এখন তার প্রতি মাসে আয় হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।






