বিয়ানীবাজারে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে কেঁচো সার

সিলেটের বিয়ানীবাজারে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে কেঁচো সারের ব্যবহার বাড়ছে। কৃষকদের চাহিদা বাড়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে এ সার উৎপাদন করছেন উদ্যোক্তারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন নারী ও শিক্ষিত তরুণরাও। উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের দুবাগ গ্রামের কৃষাণী শারমিন বেগম কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। শুরুতে ছয়টি সিমেন্টের রিংয়ে উৎপাদন শুরু করলেও চাহিদা বাড়ায় পরে আরও ছয়টি রিং যুক্ত করেন। সম্প্রতি তিনি ২১০ কেজি সার বিক্রি করেছেন।
শারমিন বেগম জানিয়েছেন, সার উৎপাদনের পাশাপাশি কেঁচোও বিক্রি করছেন তিনি। আশপাশের কৃষকরা তার কাছ থেকে সার কিনছেন। এতে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শেওলা ইউনিয়নের ঢেউনগর গ্রামের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী আব্দুর রবও প্রশিক্ষণ নিয়ে এ সার উৎপাদন শুরু করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আবর্জনা, গোবর ও কচুরিপানা মিশিয়ে বস্তায় ১০ থেকে ১৫ দিন রাখতে হয়। এরপর মিশ্রণটি সিমেন্টের রিংয়ে নিয়ে কেঁচো ছাড়লে কয়েক দিনের মধ্যে সার তৈরি হয়। সবজি চাষে ভালো ফল পাওয়ায় তিনি উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কেঁচো সার মাটির জৈব উপাদান ও উর্বরতা বাড়ায়। মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সহায়তা করে। এতে সেচ ও চাষের খরচ কমে। এ সার ব্যবহার করে কৃষকরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাজেদুর রহমান বলেছেন, রাসায়নিক সারের তুলনায় কেঁচো সার উৎপাদনে খরচ কম। এটি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি ফসলের উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা করে। তাই কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ সার ‘পঞ্চখণ্ড জৈব সার’ নামে বাজারজাত করার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।



