মানুষের বিপদে ছুটতেন, এখন নিজের জীবন বাঁচাতে সহায়তা প্রয়োজন রাজনের

দুই সন্তানের সঙ্গে রাজন সরদার। ছবি: আগামীর সময়
যে মানুষটি বিনা স্বার্থে অন্যের শেষ বিদায়ের সঙ্গী হয়েছেন, মানুষের বিপদে ছুটে গেছেন সবার আগে, নিজের শ্রম ও ভালোবাসা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের—আজ সেই মানবিক মানুষটিই নিজ জীবন বাঁচাতে লড়ছেন প্রতিনিয়ত। দুটি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যাওয়ায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন ঈশ্বরদীর রাজন সরদার।
তার জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন জরুরি কিডনি প্রতিস্থাপন। এ জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।
রাজন সরদার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মানিকনগর মধ্যপাড়া গ্রামের মতিয়ার সরদারের ছেলে। এলাকায় তিনি একজন মানবিক ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি। কোনো আর্থিক প্রতিদান কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই এলাকার বিভিন্ন মানুষের মৃত্যুর পর নিজ হাতে ৭৫টিরও বেশি কবর খনন করেছেন। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মৃত ব্যক্তির শেষ বিদায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন পরম মমতায়। শুধু তাই নয়, এলাকার মানুষের যেকোনো বিপদ-আপদে, সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সবসময়।
মানুষের শেষ বিদায়ের কাজে যিনি নিরলসভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, আজ তার নিজের জীবনই সংকটাপন্ন। তার দুটি কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রাজনকে বাঁচাতে দুই মাসের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন।
রাজনের স্ত্রী জানালেন, স্বামীর উন্নত চিকিৎসা ও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। এরই মধ্যে চিকিৎসার পেছনে সঞ্চিত সবটুকু অর্থ ব্যয় করে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। বর্তমানে একদিকে যেমন স্বামীর অনিশ্চিত জীবন, অন্য দিকে তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন পার করছেন তিনি।
ছেলেকে বাঁচাতে রাজনের মা নিজের একটি কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনের মা জানিয়েছেন, নিজের ছেলের জীবনের মূল্য তার কাছে নিজের চেয়েও বেশি। এজন্য শেষ জীবনে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। কিন্তু তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যয়টুকুও বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
রাজন সরদারকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনসহ সরকারের সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন তার স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।




