গঙ্গাচড়ায় কীটনাশক ছিটিয়ে কৃষকের এক একর জমির ধান নষ্টের অভিযোগ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ধান কাটার আগমুহূর্তে জমিতে আগাছা দমনের ওষুধ ছিটিয়ে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দেড় একর জমিতে আমন ধানের চাষ করা মুদি দোকানি মো. আলম মিয়া আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের ঠাকুরাদহ ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন জমিতে গিয়ে দেখা যায়, একাংশের ধানগাছ শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে আছে। যে জমিতে আর কিছুদিন পর সোনালি ধান দোলার কথা, সেখানে এখন চোখে পড়ছে ক্ষতিগ্রস্ত ধানগাছ। ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন নিয়ে দিন গুনছিলেন আলম মিয়া। কিন্তু ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে তার দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
আলম মিয়া জানান, সোমবার সকালে নিজের জমিতে গিয়ে ধানগাছের এমন অবস্থা দেখতে পান তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগের রাতে কে বা কারা জমিতে আগাছা দমনের ওষুধ ছিটিয়ে দিয়েছে। এতে জমির একাংশের ধানগাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
পেশায় মুদি দোকানি আলম মিয়া দোকান সামলানোর পাশাপাশি প্রায় দেড় একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। ফসল ফলাতে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন তিনি। আশা ছিল, ধান ঘরে তুললে পরিবারের অভাব মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারবেন। কিন্তু ফসলের ক্ষতি হওয়ায় এখন সেই আশা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত বেলাল বলেছেন, এই ফসল ঘিরে আলম মিয়ার পরিবারের অনেক আশা ছিল। ধান ঘরে তুলতে পারলে সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয়ও বহন করতে পারতেন তিনি। ফসল নষ্ট হওয়ায় পরিবারের সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে আলম মিয়া আগামীর সময়কে বলেছেন, অনেক কষ্ট করে নিজের শ্রম আর টাকা খরচ করে ধানগুলো ফলিয়েছি। ভেবেছিলাম, পাকা ধান ঘরে তুলে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাব। কিন্তু কে আমার সঙ্গে এমন শত্রুতা করল, বুঝতে পারছি না। আমি কার কী ক্ষতি করেছিলাম, যে আমার কষ্টের ফসল এভাবে নষ্ট করে দিল? এখন এই ধান নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা কীভাবে পূরণ করব?
তিনি আরও জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেবেন।
বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামছুল হুদা বলেছেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। ঘটনাটি আমার বাড়ির পাশেই। যারা এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ করেছে, নিঃসন্দেহে তারা নিন্দনীয় কাজ করেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




