গজারিয়ায় ৮৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৫টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

ছবি: আগামীর সময়
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৫টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় প্রধান না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২২ জন। ২৪টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকরা। বাকি ৪০টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবেও রয়েছেন সহকারী শিক্ষকরা।
জানা গেছে, উপজেলার ৮৭টি বিদ্যালয়ে মোট ১১ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এসব বিদ্যালয়ের ৬৫টি প্রধান শিক্ষকের পদের পাশাপাশি খালি রয়েছে ৪৩টি সহকারী শিক্ষকের পদও।
সরেজমিনে উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, বদলি ও অবসরজনিত কারণে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে। ফলে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র চার-পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। সেখানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হলে একজন সহকারী শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট তৈরি হয় এবং নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়।
একাধিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আগামীর সময়কে জানালেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস, ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দাপ্তরিক কাজে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহানাজ পারভীন জানালেন, প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদগুলোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পদগুলো পূরণের জন্য এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। নিয়মিতভাবে হালনাগাদ তথ্যও পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানালেন, পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন এমন সহকারী শিক্ষকদের তালিকাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই শূন্য পদগুলো পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




