উপহারের সাইকেলে বদলে গেল রত্নার পথচলা

ছবি: আগামীর সময়
অভাবের কারণে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হতো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রত্না বিশ্বাসকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ক্লান্তি, দেরি আর পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা ছিল নিত্যসঙ্গী। তবে সরকারের উপহার হিসেবে একটি বাইসাইকেল পেয়ে বদলে গেছে তার স্কুলজীবন। এখন মাত্র ১০ মিনিটেই স্কুলে পৌঁছাতে পারবে রত্না।
একই কর্মসূচিতে আরও ১৭ শিক্ষার্থী পেয়েছে বাইসাইকেল, দেওয়া হয়েছে শিক্ষাবৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বসতঘর সহায়তাও।
রত্না রাজশাহীর পবা উপজেলার খ্রিস্টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সে ইউসেফ রাজশাহী টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষার্থী। বাবা একজন রাজমিস্ত্রি। অভাবের সংসারে মেয়ের জন্য একটি বাইসাইকেল কেনা ছিল পরিবারের নাগালের বাইরে।
সেই কষ্টের দিন বদলাতে শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে একটি বাইসাইকেল পেয়েছে রত্না। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন সাইকেল হাতে পেয়ে আনন্দে ভরে ওঠে তার মুখ।
বাইসাইকেল পেয়ে উচ্ছ্বসিত রত্না বলল, 'আমার বাবার পক্ষে সাইকেল কিনে দেওয়া সম্ভব ছিল না। হেঁটে স্কুলে আসতে প্রায় এক ঘণ্টা লাগত। এখন সরকারের দেওয়া সাইকেলে মাত্র ১০ মিনিটেই স্কুলে যেতে পারব।'
শুধু রত্নাই নয়, একই অনুষ্ঠানে কশবা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমন টুডুও পেয়েছে একটি নতুন বাইসাইকেল। সেও দীর্ঘদিন পায়ে হেঁটে স্কুলে যেত। নতুন সাইকেল পেয়ে ইমন ও তার পরিবার খুশি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা- মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
তিনি বললেন, সরকার প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন একটি বাইসাইকেল শুধু যাতায়াত সহজ করে না, এটি একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং পড়াশোনায় নতুন প্রেরণা দেয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন। তিনি বললেন, সরকারের এ সহায়তা শুধু তাৎক্ষণিক সহযোগিতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি সহায়তাপ্রাপ্তদের এসব উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
পবা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে ১৮ জন শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল, ১২০ জনকে শিক্ষাবৃত্তি, ১২ জনকে সেলাই মেশিন এবং ৪ জনকে বসতঘর সহায়তা দেওয়া হয়। এসব খাতে মোট ২৭ লাখ ১১ হাজার টাকার উন্নয়ন সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি রাজ কুমার শাও, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ।





