পাখির গ্রামে পাখিরই ভয়
- ঝিনাইদহের আশুরহাটে গাছ উজাড়, অবাধে শিকার

ছবি: আগামীর সময়
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আশুরহাট পরিচিতি পেয়েছে ‘পাখির গ্রাম’ নামে। পরিযায়ী ও দেশি পাখির কলকাকলিতে ভরা থাকে যে গ্রামটি, সেখানেই এখন পাখিদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। রাতের আঁধারে চলছে পাখি শিকার, দিনের আলোয়ও চলে শিকারিদের আনাগোনা। এর সঙ্গে পুকুরপাড়ের বড় বড় গাছ কেটে ফেলায় কমছে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়। স্থানীয়দের উদ্যোগে গড়ে ওঠা পাখির এই আবাসস্থল এখন হয়ে পড়েছে অনিরাপদ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে ওঠা এ এলাকায় এখন নিয়মিত নজরদারি না থাকায় শিকারিরা সুযোগ নিচ্ছেন। আশুরহাটকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা এবং পাখি শিকার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
২০০৭ সালের দিকে শীত মৌসুমে আশুরহাটে অতিথি পাখির আনাগোনা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তিনটি পুকুরের চারপাশের বড় বড় গাছে পাখির সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরিযায়ী পাখির পাশাপাশি সেখানে শামুকখোল, পানকৌড়ি, বক, ঘুঘু, শালিকসহ বিভিন্ন দেশি পাখিও বসতি গড়ে তোলে। পাখিদের প্রতি স্থানীয় মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসা বাড়তে থাকায় তারাই নিজেদের উদ্যোগে এলাকাটিকে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের আঁধারে চোরা শিকারিরা পাখি শিকার করেন। এমনকি দিনের বেলায়ও কেউ কেউ পাখি ধরছেন। পাখি সংরক্ষণ পরিষদের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে পাখিগুলোর দেখাশোনা করে আসছেন। কিন্তু শিকারিদের ঠেকাতে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। গ্রাম-পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা নিয়মিত ও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে না— অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা রউচ উদ্দিন, শামসুল আলম ও নয়ন শেখের।
তাদের ভাষ্য, পাখিদের আবাসস্থলের গাছ কেটে ফেলার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। গাছ কমে যাওয়ায় পাখির বাসা তৈরি ও বংশবিস্তারের সুযোগ কমে গেছে। এর সঙ্গে শিকারিদের তৎপরতা যোগ হওয়ায় আশুরহাটের পাখির সংখ্যা ভবিষ্যতে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুধু শিকার নয়, পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংসের আরেকটি কারণ হিসেবে বড় গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি সামনে এসেছে। পুকুরগুলোর চারপাশে থাকা গাছগুলোতেই পাখিরা বাসা বাঁধে। এসব গাছ কমে গেলে পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ও কমে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় পাখিপ্রেমীরা।
আশুরহাট পাখি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ভাষায়, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখানে পাখির অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে। কিন্তু পুকুরের চারপাশের ব্যক্তিমালিকানাধীন বড় গাছ কেটে ফেলায় পাখিদের বাসা বাঁধা ও বংশবিস্তার হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি রাতে শিকারিরা পাখি ধরছেন।’ গ্রাম-পুলিশকে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাটিকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস। জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানালেন, আশুরহাটে গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি তারা শুনেছেন। পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পাখিশিকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।



