বাজার থেকে ফিরছিলেন বাড়ি, রাতের আঁধারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে প্রতিরাতের মতোই চেনা পথ ধরে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন তিনি। আর কিছুদূর গেলেই মা-বাবার কাছে পৌঁছাতেন। কিন্তু রাতের সেই চেনা পথই যে তাঁর জীবনের শেষ পথচলা হবে, তা কে জানত! কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাতের আঁধারে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. জুবায়ের (২৮) নামে এক যুবকের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। ঈদের পরদিনই এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঈদের পরদিন গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) রাতে উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের কোদালিয়া চৌরাস্তা থেকে হোসেনপুর সড়কের শৈলজানী বিলাস এলাকার একটি কালভার্টের ওপর এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। নিহত জুবায়ের ওই ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামের মো. আলতাফ উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের নিজের পায়ে দাঁড়াতে পোল্ট্রি ব্যবসার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী হিসেবে বিভিন্ন দোকানে কাজ করতেন। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও তিনি বাজারে নিজের কাজ শেষ করে রাতের দিকে বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু শৈলজানী বিলাস এলাকার কালভার্টের ওপর পৌঁছানোমাত্রই অন্ধকারে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর আচমকা সশস্ত্র হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে তারা।
সড়কের পাশ থেকে জুবায়েরের বাঁচার আকুল চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে খুনিরা অন্ধকারে চম্পট দেয়। স্থানীয়রা এসে কালভার্টের ওপর জুবায়েরকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। গুরুতর আহত জুবায়েরকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রতিবেশীরা, কিন্তু চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগেই ঘটনাস্থলেই ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জুবায়েরের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথেই জুবায়েরের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বললেন, 'আমরা এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি, তবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নিহত জুবায়েরের মাকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।'






