কুয়াকাটায় খালের ওপর স্বস্তির পথ
- ১৬০ ফুট ভাসমান সেতুতে দুর্ভোগের অবসান

ছবি: আগামীর সময়
পাঁচ বছর ধরে খাল পারাপারে ভেলা, নৌকা আর বাঁশের সাঁকোই ছিল ভরসা। বর্ষায় সেই সাঁকো হয়ে উঠত আরও ঝুঁকিপূর্ণ; পার হতে গিয়ে আতঙ্কে থাকতেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। সেই দুর্ভোগের দিন এবার শেষ হয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মম্বিপাড়া খালের ওপর তৈরি হয়েছে ১৬০ ফুট ভাসমান সেতু। ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত এই সেতু চালু হওয়ায় চারটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মম্বিপাড়া খালের ওপর থাকা লোহার সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগ শুরু হয় পৌরগোজা, চানুরগোজাসহ আশপাশের চারটি গ্রামের মানুষের। প্রথমে ভেলা, পরে নৌকা দিয়ে খাল পার হতেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হলে সেটিই হয়ে ওঠে মানুষের প্রধান ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারে সাঁকোটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে খাল পারাপার করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।
স্থানীয় মানুষের এই দীর্ঘ অপেক্ষার পরই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ডু সামথিং ফাউন্ডেশন। তাদের উদ্যোগে খালের ওপর তৈরি করা হয় ১৬০ ফুট দীর্ঘ ভাসমান সেতুটি। এর ফলে চারটি গ্রামের মানুষের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও তৈরি হয়েছে সহজ ও তুলনামূলক নিরাপদ চলাচলের পথ।
পৌরগোজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুসফিকার ভাষায়, বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পার হতে তাদের খুব ভয় করত। কয়েকজন সহপাঠী সাঁকো থেকে খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নতুন ভাসমান সেতু নির্মাণ হওয়ায় এখন আর সেই ভয় নেই। আনন্দের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে তারা।
শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, দীর্ঘদিন ভুগেছেন গ্রামের অন্য বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা পরশ মনির বললেন, ‘পাঁচ বছর পর চলাচলে ফিরেছে স্বস্তি। এতদিন খাল পার হতে মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।’ ভাসমান সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ডু সামথিং ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর মো. জাহিদুল ইসলামের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের মানুষের ভোগান্তি দূর করার লক্ষ্যেই তারা ভাসমান সেতুটি নির্মাণ করেছেন। এর মাধ্যমে চারটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাদের বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসনও। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান মনে করেন, চারটি গ্রামের মানুষের পাশাপাশি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলাচলের কষ্ট লাঘবে ১৬০ ফুট দীর্ঘ ভাসমান সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেতুটি সুন্দর ও কার্যকর হয়েছে।



