বাগেরহাটে বসতবাড়িতে ডাকাতি, আন্তঃজেলা চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

ডাকাতির মামলা গ্রেপ্তার আন্তঃজেলা ৪ ডাকাতসদস্য
বাগেরহাটে বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা, একটি বাটন মুঠোফোন ও বিক্রি করা স্বর্ণালংকারের ২ ভরি ৫ আনা গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পুলিশের ভাষ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে বাগেরহাট সদর উপজেলার ৬ নম্বর যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁপাতলা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ আতিয়ার রহমান ও তার স্ত্রী রেহেনা বেগম ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা তিন দুর্বৃত্ত জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে তারা দুজনের হাত বেঁধে ঘরের স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি বাটন মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় শেখ আতিয়ার রহমানের ছেলে শেখ ওমর ফারুক বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মামলা করেন। ১৪ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নড়াইলের লোহাগড়া এলাকা থেকে মো. হাসিব শেখ (২৩) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত ১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই দিন রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে মো. ইনামুল বিশ্বাস ওরফে এনা (৩৭) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে লুট হওয়া একটি বাটন মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। হাসিবের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ৫ নভেম্বর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত আব্দুর নূর তুষার ওরফে হৃদয় (৩১) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৩০ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে তুষারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারের ক্রেতা আব্দুর রশিদকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ওই স্বর্ণালঙ্কারের কাছ থেকে গলিত অবস্থায় ২ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার চারজনই আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের মধ্যে আব্দুর নূর তুষার ওরফে হৃদয়ের বিরুদ্ধে ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট ৯টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাপাতলা গ্রামে ডাকাতির ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ৯টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




