নড়াইল
চোর সন্দেহে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন

চোর সন্দেহে নড়াইলে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেনকে (৩২) প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
আনোয়ার সদর উপজেলার বাঁশগ্রামের কাওছার মোল্যার ছেলে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আজ সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেছেন বড় ভাই নবীর হোসেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী। গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সেদিন রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালে আনোয়ারকে আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিত, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে এবং মারধর করেন।
বিবরণে আরও বলা হয়েছে, এক পর্যায়ে প্রসেনজিত প্রতিবন্ধী আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে গুরুতর জখম ও ফোলার সৃষ্টি হয়েছে।
আহতের বড় ভাই নবীর হোসেন দাবি করেন, আনোয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত। ঘটনার দিন আনোয়ার বের হয়ে আর ফেরেনি। তাকে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দিয়েছে অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় সদরের গোবরা মালোপাড়ার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিত বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস এবং পরাণ বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাসের নামে অভিযোগ করা হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বললেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




