মাদারীপুরে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বোরো ধান

ছবি: আগামীর সময়
মাদারীপুরে তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ক্ষেতে থাকা পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক। সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যকচরসহ বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সকালে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। কোথাও এক হাঁটু পানি, আবার কোথাও পুরো ক্ষেত তলিয়ে গিয়ে শুধু ধানের শীষ ভাসছে। কৃষকদের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা না গেলে পচে যাওয়া ধান ঘরে তোলা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
চলতি মৌসুমে মাদারীপুরে ৩২ হাজার ৭৮০ হেক্টরের বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে এবং কৃষি বিভাগ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ কৃষকদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।
মধ্যকচর এলাকার কৃষক হান্নান হাওলাদার আক্ষেপ করে বললেন, মাত্র কয়েকদিন আগেও যে মাঠ ছিল সোনালি ফসলে ভরা, সেই মাঠ এখন আমাদের হতাশার প্রতিচ্ছবি। অনেক ক্ষেতেই ধান হলুদ হয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। কৃষি মৌসুমের শেষ সময়ে এমন বৃষ্টি আমাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
একই এলাকার ঈমানী মিয়া তার চরম সংকটের কথা তুলে ধরে জানান, ছোট ভাই চার লাখ টাকা খরচ করে ওমান গিয়েও কিছু করতে না পেরে ফিরে এসেছে, এরই মধ্যে বোরোতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হলো। আয় নেই, ঋণ আছে, আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছি।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বাহেরচর, কাতলা ও আলীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায়। কৃষক আনোয়ার বাদশা জানান, এ মৌসুমে সার, বীজ ও ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় আবাদে খরচ গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলন ভালো হলেও শেষ মুহূর্তে বৃষ্টির বাগড়ায় সব ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় কলেজছাত্র দেলোয়ার হোসেন রাজুর ভাষ্য, দুদিন পানির নিচে থাকায় ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ কেউ কাটছেন ঠিকই, কিন্তু শ্রমিক খরচ এত বেশি যে তাতে লোকসানই বাড়বে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা এবং ভবিষ্যতে চাষাবাদের জন্য বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডক্টর রহিমা খাতুন সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে উচ্চফলনশীল ধান আবাদ হওয়ায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। অতিরিক্ত দাবদাহের আগেই ধান পেকে যাওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। তবে কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে কিছু জায়গায় ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। যদিও পাটের আবাদ ভালো হওয়ায় কৃষকরা সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পাটের এই সাফল্য প্রান্তিক কৃষকদের মনে খুব একটা স্বস্তি জোগাতে পারছে না।



