ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শিখুন : পাটওয়ারীকে এমপি আশরাফ

ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। ছবি: ভিডিও থেকে
নরসিংদীর রায়পুরায় নিজ পৈতৃক গ্রাম নুরপুরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। আজ শুক্রবার উপজেলার নিজ গ্রামের বাড়িতে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, আমরা চাই না কেউ কারও কথায় কষ্ট পাক। কারণ বন্দুকের গুলি যেমন একবার বেরিয়ে গেলে ফেরানো যায় না, তেমনি কারও মুখ থেকে কোনো কথা বেরিয়ে গেলেও তা ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। এ জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এতটুকু বলব, আপনি সতর্ক থাকেন। কিছু শেখার চেষ্টা করেন। বিএনপির রাজনীতি থেকে, ছাত্রদলের নেতাদের কাছ থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করেন। ছাত্রদল থেকে শিক্ষা নেন কীভাবে রাজনীতি করতে হয়। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বলব, ‘আমার বক্তব্যগুলো ফলো করেন। অন্তত আমার বক্তব্য থেকে আপনি কিছু শিখতে পারবেন। আমার গুরু তারেক রহমানকে ফলো করার দরকার নাই। রায়পুরার ইঞ্জিনিয়ার আশরাফকে ফলো করলে অন্তত রাজনীতি দীর্ঘায়িত হবে। অন্যথায় এনসিপির রাজনীতি বিলীন হয়ে যাবে।’
এমপি আশরাফ উদ্দিনের ভাষ্য, ‘আমরা রাজনীতি করি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার। আমাদের বর্তমান সেনাপতি হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মানবিক নেতা। তিনি মানুষের দুঃখ বোঝার চেষ্টা করেন। সেজন্য আমরা মানবিক নেতা হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা প্রশিক্ষণ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। তার মতো নেতা পেয়ে আমরা গর্বিত। আপনারাও গর্ববোধ করতে পারবেন।’
‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান প্রতিটা সন্তান যেন সুশিক্ষিত হয়। সন্তানরা যেন মাদকসংশ্লিষ্ট কাজে জড়িয়ে না পড়ে, যেন নেশায় আসক্ত না হয়। সবাই যেন উচ্চশিক্ষিত হয়ে জীবন গড়তে পারে। কেউ যদি উচ্চশিক্ষায় না যেতে পারে তা-ও যেন সুশিক্ষিত হয়ে নিজের জীবন যেন গড়তে পারে,’ বলছিলেন এমপি।
নিজ আসনের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিয়ে আশরাফ উদ্দিন বললেন, ‘আমি নির্বাচনের আগে বলেছিলাম রায়পুরা হবে মডেল। রায়পুরা থেকে শিখবে সারা বাংলাদেশ। আমরা এখন সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ। রায়পুরা থেকে আমরা যেসব ঘোষণা করছি সারা দেশ সেগুলো অনুসরণ করছে। দেখুন এনসিপি আজ যেসব খারাপ ভাষায় কথা বলে, খারাপ বক্তব্য দেয়, তাতে মানুষে মানুষে ঝগড়া হয়। এ জন্য তারা মানুষের গালি খায়, মানুষ তাদের ঘৃণা করে। আমরা এ রাজনীতি করি না।’
এ সময় এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এমপি আশরাফ বললেন, ‘জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই আমাদের মূল লক্ষ্য। রায়পুরার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং এলাকার সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আমি সর্বদা সচেষ্ট আছি। এলাকার প্রতিটি স্তরের উন্নয়নে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
তিনি জানান, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সভায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নেতাকর্মীরা তাদের নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা এমপি আশরাফের সামনে তুলে ধরেন এবং তিনি দ্রুত সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।




