সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ

সোনাহাট স্থলবন্দর— সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একতরফাভাবে পাথরের দাম বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের পাথর সরবরাহের প্রতিবাদে গত ১৮ জুলাই থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এতে স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরে প্রবেশ করত। তবে গত চার দিনে একটি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি। ফলে বন্দরের আমদানি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
পাথর আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে পাথর সরবরাহ করছেন, তার গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ। রিভার স্টোন বোল্ডারের পরিবর্তে ছোট আকারের পাথর দেওয়া হচ্ছে। এসব পাথর অটোক্রাশ মেশিনে ভাঙার পর আরও ছোট হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত মাপ না থাকায় কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই পাথর কিনতে আগ্রহী হচ্ছে না।
তাদের আরও অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে পাথরের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে প্রতি টন রিভার স্টোনের দাম ছিল ১১ ডলার। বাংলাদেশে পৌঁছাতে মোট খরচ পড়ত এক হাজার ২৮০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে প্রতি টনের দাম বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে পৌঁছাতে খরচ হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৬৭০ টাকা।
সোনাহাট স্থলবন্দরের পাথর লোড-আনলোড শ্রমিক হাশেম আলী ও আছর উদ্দিন বলেছেন, ‘নিয়মিত কাজ না থাকায় তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।’
সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম বললেন, ‘ভারতের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে যে পাথর দিচ্ছেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এই পাথর দিয়ে কাজের মান খারাপ হওয়ায় কোনো ঠিকাদার পাথর কিনতে চাচ্ছে না।’
সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী মন্তব্য করেন, ‘ভারত থেকে চাহিদামতো পাথর না পাওয়ায় এবং পাথরের মান খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সাময়িকভাবে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।’
সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বলেছেন, ‘দুদেশের আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের কারণে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।’





