মুক্তাগাছা
৮ মাসের সন্তানকে ‘জীবিত কবরের চেষ্টা’ মায়ের

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কেশবপুর গ্রামে ৮ মাস বয়সী শিশু সৌরভকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তাকে জীবিত অবস্থায় কবর দেওয়ার উদ্দেশে গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে মা শাহনাজ আক্তারের বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের একটি মাটির ঢিবির সংলগ্ন স্থানে গর্ত করেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে শাহনাজ আক্তার শিশুটিকে কবর দেওয়ার উদ্দেশে ওই গর্ত খুঁড়ছিলেন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বাধা দেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত লোকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতভর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলে। প্রতিবেশীরা রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, জন্মের পর থেকেই পারিবারিক কলহের প্রভাব পড়ত শিশু সৌরভের ওপর। দাম্পত্য বিরোধ দেখা দিলেই সে নির্যাতনের শিকার হতো।
প্রতিবেশী শাবনুর আক্তার বলেছেন, ‘সৌরভ জন্ম থেকেই মায়ের অবহেলার শিকার। তাকে ঠিকমতো দুধ খাওয়ানো হতো না, অনেক সময় শুধু পানি খাইয়ে রাখা হতো। বিভিন্ন সময় শিশুটিকে মারধর ও ক্ষতি করার চেষ্টাও হয়েছে। তার বাবা সব সময় তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করতেন।’
শিশুটির বাবা হারুন মিয়া জানালেন, ‘আমার স্ত্রী প্রায়ই বলত, সে সন্তান লালন-পালন করবে না। সামান্য বিষয়েও ছেলের ওপর নির্যাতন চালাত। আজকের ঘটনাও তারই ধারাবাহিকতা।’
সৌরভের দাদা আলাল উদ্দিনের দাবি, এর আগেও শিশুটিকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় এলাকাবাসী গিয়ে বাধা দেয়। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিনি দেখেন, তার নাতিকে কবর দেওয়ার জন্য একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবেদা খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ লেগে থাকত। শাহনাজ আক্তার পেশায় বিড়ি শ্রমিক। বিয়ের পর তিনি স্বামীর বাড়িতে স্থায়ীভাবে না থেকে বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। পরে সেখানে জমি কিনে বসতঘর নির্মাণ করেন।
‘কয়েক বছর আগে শাহনাজ স্বামীর সংসার ছেড়ে ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন। পরে আবার হারুন মিয়ার সংসারে ফিরে আসেন।’—যোগ করলেন তিনি।
শাহনাজ আক্তারের মা শাহিদা আক্তার বলেছেন, ‘আমার মেয়ে শিশুটিকে দত্তক দিতে চেয়েছিল। সে মনে করত, সন্তান লালন-পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সৌরভের বড় বোনকেও আমরা লালন-পালন করেছি।’
এদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন শাহনাজ আক্তার। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে তিনি কথা বলেন। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, ‘আমি ছেলেকে কবর দিতে চাইনি। সকালে রাগের মাথায় গর্ত খুঁড়েছিলাম। সন্তানদের প্রতি অবহেলার অভিযোগও সত্য নয়। তারা দাদির কাছেই বেশি সময় থাকত।’
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি। মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। থানায়ও কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




