তাড়াশে আগুনে পুড়ল ঘর-অফিস, ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি কোটি টাকার ক্ষতি

ছবি: আগামীর সময়
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতবাড়ি ও সাতটি অফিস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার তাড়াশ পৌর সদরের সুজন মালের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, হঠাৎ করে সুজন মালের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে তাড়াশ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুনে দুটি বসতবাড়ি, সাতটি অফিস এবং একটি গুদামের মালামাল পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলশিক্ষক সুজন মাল জানান, তার বসতঘর, ভাড়া দেওয়া সাতটি অফিস এবং আরেকটি বসতঘরের মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। তার নিজের ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, চাল, নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড়সহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ভাড়া দেওয়া আরেকটি ঘরে প্রায় ২ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ভাড়া দেওয়া আরএফএলের একটি গুদামে মজুত থাকা পণ্যসামগ্রী পুড়ে গেছে। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। পাঞ্জেরী প্রকাশনীর অফিসে থাকা বই ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, দৈনিক সমকালের তাড়াশ প্রতিনিধির ব্যক্তিগত অফিসে থাকা মূল্যবান বই, একটি কম্পিউটার, একটি এলইডি টিভি, ফাইল ক্যাবিনেট, বুকশেলফ ও অন্যান্য আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে যায়। একই অফিসে রাখা আরটিভির প্রতিনিধি হাদিউল হৃদয়ের একটি ক্যানন ৭০০ডি ডিএসএলআর ক্যামেরাও আগুনে ধ্বংস হয়েছে। এ দুই সাংবাদিকের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
তাড়াশ ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. মঞ্জুরুল আলম বলেছেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে।’
ঘটনার পর তাড়াশের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক এ জেড এম নাহিদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।




