মসজিদের সম্মানীর তালিকায় অনিয়ম, জামায়াতের দুই নেতাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সরকারি সম্মানীর তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর যশোরের কেশবপুরে জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতাকে সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বমুক্ত নেতারা হলেন পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাসুদ কামাল এবং ২ নাম্বার ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির আব্দুল মুতালেব মোল্লা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাইদুর রহমান সাঈদ। তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দুই নেতা এখন থেকে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা বায়তুন নূর জামে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য সরকারি উদ্যোগে দেওয়া সম্মানীর তালিকা তৈরিকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, মসজিদের প্রকৃত ইমাম ও খাদেমের পরিবর্তে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার তবিবুর রহমান এবং স্থানীয় ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মুতালেব মোল্লার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ১১ আগস্ট যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোক্তার আলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও দলীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মাসুদ কামাল ও আব্দুল মুতালেব মোল্লাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাইদুর রহমান সাঈদ বলেছেন, ‘অনিয়মের অভিযোগের পর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয়েছে কি না, কিংবা পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আরও কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কেশবপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোক্তার আলী এবং সেক্রেটারি মাস্টার রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা আমিরের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানানো হয় এবং অভিযোগের বিষয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরা হয়।
গত ১৫ আগস্ট কেশবপুরে সরকারি উদ্যোগে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য দেওয়া সম্মানীর তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। গড়ভাঙ্গা বায়তুন নূর জামে মসজিদের প্রকৃত ইমাম ও খাদেমের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই বিষয়টির সূত্রপাত বলে জানা গেছে।







